সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি

Printed Edition
3rd-5
বকেয়া বেতনের দাবিতে সাভারে এ্যামট্রালেট কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা

সাভার পৌর এলাকার পশ্চিম রাজাশনের ঈদগাঁ সংলগ্ন এ্যামট্রানেট লিমিটেড কারখানায় বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল রোববার উৎপাদন বন্ধ করে কর্মবিরতি ও কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজাশনের ঈদগাঁ মাঠসংলগ্ন কসবা টাওয়ারে এ্যামট্রানেট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের ডিসেম্বর’২০২৫ মাসের বকেয়া বেতন চলতি মাসের (জানুয়ারি) ৭ তারিখ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু মালিক পক্ষ থেকে তা ২০ জানুয়ারি দেয়ার কথা জানালে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারই পরিপেক্ষিতে সকালে শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে আসার পর তাদের বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রথমে উৎপাদন বন্ধ করে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে মালিক পক্ষ থেকে কোনো আশ^াস না পেলে তারা কারখানার মূল ফটকের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও শ্রমিক, পুলিশ ও মালিক পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হলেও বিকেল পর্যন্ত কোনো মীমাংসা হয়নি। শ্রমিকদের দাবি বকেয়া বেতন পরিশোধের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ না পেলে তারা কারখানা ত্যাগ করবে না। কারখানায় সোয়েটার, সুয়িং, ওয়াশিং ও ইয়ার্ন ডায়িং বিভাগ রয়েছে।

এ ছাড়াও শ্রমিকরা জানান- এ্যামট্রানেট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ মাতিৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন (৪ মাস) দিলেও ৬০ দিন বা দুই মাসের টাকা পরিশোধ করে পুরো ১২০ দিন (৪ মাসের) স্বাক্ষর নিয়ে যায় এবং ছাঁটাই, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের পাওনাদি পরিশোধের কথা থাকলেও তা এক বছর, দুই বছর থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত হয়রানি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিট ডাইয়িং সেকশনের এক অপারটের জানান, এ্যামট্রানেট গ্রুপের চেয়ারম্যান বদিউল আলম চৌধুরী ২০১৮ সালে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সামান্য কিছু হলেই বহিরাগতদের দিয়ে শ্রমিকদের মারধর করতেন। এখনো তিনি বহিরাগতদের ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেন। আমাদের আগের মাসের বেতন পরের মাসের ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে দেয়া কথা থাকলেও কোনো মাসেই নিয়মিত দেয়া হয়নি। ঘর ভাড়া, দোকান বাকিসহ নানা সমস্যায় আমাদের প্রতি মাসে পড়তে হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম সুজন জানান- কারখানাটিতে মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাঁটাই ও চাকরিচ্যুত করা শ্রমিকদের যে নিয়মে টাকা পরিশোধ করার কথা রয়েছে মালিক পক্ষ সেই নিয়ম মানছেন না। তিনি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন প্ররিশোধের দাবি জানান।

শিল্প পুলিশের সাভার এলাকার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক তায়েবীর আহমেদ জানান- ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করে আন্দোলন করছেন।

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার (ঢাকা-১) সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মিরাজ নয়াদিগন্তকে জানান- শ্রমিকদের সাথে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। এখনো কোনো সমাধান হয়নি। কারখানাটির ছয় হাজার শ্রমিকের মাঝখানে রেখে মীমাংসার চেষ্টা করছি।