গণবিরোধী ও ঋণনির্ভর বড় ঘাটতির বাজেট : ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান

সংসদে কুরআনের আয়াতের ‘অপব্যাখ্যা’ নিয়ে বিতর্ক

১/১১-এ তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিচার দাবি শাম্মী আক্তারের

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতা চলাকালীন পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বাগি¦তণ্ডা এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদের কুরআনের আয়াতের রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা ও ঠাট্টা-বিদ্রƒপের অভিযোগ তুলে ঘটনার সূত্রপাত করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এরপর স্পিকারের বারবার হস্তক্ষেপ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও সিনিয়র সংসদ সদস্যদের দফায় দফায় বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। একপর্যায়ে স্পিকার বিতর্কিত অংশ পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস দেন।

গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধী সংসদ সদস্যদের আচরণ ও কৌশলের কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে আরবি’তে পবিত্র কুরআনের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আল্লাহ নিজেই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী এবং যারা আল্লাহর বান্দাদের বিরুদ্ধে অন্যায্য কৌশল খাটায় তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়। যারা সরকারের উন্নয়ন ও জনমুখী কর্মকাণ্ডকে স্বীকার না করে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠিন আজাবের সম্মুখীন হতে হবে।

সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহর বক্তব্য শেষে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, বাজেট বক্তৃতায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ কুরআনের আয়াত কোট করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আসলে ঠাট্টা-বিদ্রƒপের শামিল এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, উনাদের প্রশংসা করলে উনারা আরো বাড়িয়ে দেবেন আর না করলে পিটাবেন কি না, এমন বোঝানোর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিগত শাহবাগ আন্দোলনের সময়কার একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন। মোমেন বলেন, সে সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে কুরআনের অবমাননা নিয়ে একটি চিঠি নিয়ে যাওয়া হলে তিনি সূরা তাওবাহর একটি আয়াত যোগ করার পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করার পরিণাম হবে জাহান্নাম। কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না জানিয়ে এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জবাবে স্পিকার ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন পুরনো সংসদ সদস্য এবং তিনি কুরআন-হাদিস নিয়ে কোনো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে পারেন বলে মনে হয় না। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং যদি কোনো ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়ে থাকে, তবে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেয়া হবে। স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ এবং এখানে কুরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।

এরপর বিতর্কে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি কোনো দীর্ঘ বিতর্কে যেতে চান না, তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুরআনের ভুল ব্যাখ্যার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে দেশের মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যাবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন মাওলানা এবং মাদরাসার ছাত্র। তিনি সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যেই বলেছেন যে, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি তা বাড়িয়ে দেন, আর শুকরিয়া আদায় না করলে আজাব আসতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটিকে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা বা এটা নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা মোটেও ঠিক হয়নি। ৯২ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো সংসদ সদস্য যদি ভুলক্রমেও ইসলামের অবমাননা করেন, তবে সরকার তার নিন্দা করবে; কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সমীচীন নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার আবারো পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, সংসদে অধিকাংশ সদস্যই মুসলমান এবং দেশের ৯২ ভাগ মানুষও এই ধর্মের অনুসারী। তাই সংসদকে বিরূপ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না বানিয়ে প্রবীণ নেতাদের উপস্থিতিতে জুনিয়র সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

তবে স্পিকারের এই অনুরোধের মধ্যেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপটকে আড়াল করে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ দলীয় রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছেন। মুজিবুর রহমান ব্যাখ্যা দেন যে, আল্লাহ তায়ালা এই দুনিয়ায় অগণিত নেয়ামত রেখেছেন যা গণনা করে শেষ করা যাবে না এবং মানুষের উচিত এই শক্তি দিয়ে আল্লাহর বিধিনিষেধের পক্ষে কথা বলা। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা খুব ভালো হয়েছে দাবি করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিরোধী দল যদি এই বাজেটের প্রশংসা না করে তবে তাদের ওপর আল্লাহর আজাব আসবে। এই ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা মোটেও সঠিক নয় দাবি করে মুজিবুর রহমান প্রয়োজনে কোনো আলেম বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।

পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করলে স্পিকার অন্য সদস্যদের শান্ত হতে বলেন এবং জানান যে, ট্রেজারি বেঞ্চেও অনেক মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম রয়েছেন। নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করার শর্তে তিনি সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনকে কথা বলার সুযোগ দেন। কামরুজ্জামান রতন স্পিকারের কাছে ওয়াদা করে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের আয়াতের মধ্যেই রয়েছে যে, আমরা শুনলাম এবং তা পালন করলাম। তিনি আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আহ্বান জানান, যা সহিহ বা সঠিক, আমরা যেন সবাই সেটির ওপর আমল করি এবং এই আমলের মধ্য দিয়েই যেন সবার পরিশুদ্ধতা আসে।

সবশেষে চলমান এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংসদে বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সব সংসদ সদস্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যখন সংসদের সিনিয়র লিডাররা কথা বলবেন, তখন অন্য সদস্যদের স্বাভাবিকভাবেই আসন গ্রহণ করা উচিত। তিনি বলেন, আমরা সবাই যেহেতু আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী এবং অভিযুক্ত সদস্য মাহফুজুল্লাহ সাহেব নিজে একজন আলেম, তাই তিনি কোনো ব্যঙ্গাত্মক বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেননি; বরং সবার আমলকে আরো সহিহ এবং শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত হৃদয় খুলে তিনি কথাটি বলেছেন।

ঋণনির্ভর বড় ঘাটতি বাজেট : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট একটি গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বাজেটের আকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাজিবুর রহমান বলেন, বলা হচ্ছে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। আসলে কি তাই? ১৯৭২ সালে আমাদের বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। তখন স্বর্ণের ভরি ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। আজকে স্বর্ণের দাম এক হাজার ৪০০ গুণ বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৪২ হাজার টাকা। সেই তুলনায় বাজেট বেড়েছে মাত্র এক হাজার ২০০ গুণ। সুতরাং মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে বাজেটের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে বাড়েনি। এই বাজেটকে বড় বাজেট বলা যাবে না, তবে একে বলা যাবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট। এ বাজেট লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং হরিলুটের পথ খুলে দেবে।

বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নে আমাদের অংশগ্রহণ কতটুকু? আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুধু রাবার স্ট্যাম্পের মতো বাজেট পাস করি। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ বিল সংসদে আসার আগে স্থায়ী কমিটিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। আমাদের এখানে আমলারা বাজেট বানান, আমরা কয়েক মিনিটের গলাবাজি করি মাত্র। এই সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার।

ঘাটতি মেটাতে দেশীয় ব্যাংক থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যের সমালোচনা করে নাজিবুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর অবস্থা এখন নাজুক। ইসলামী ব্যাংক থেকে সাত দিনে চার হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে মানুষ। সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে ধার দিচ্ছে। এই অবস্থায় ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিলে দেশের অর্থনীতির ১২টা বাজবে।

বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ কর দেন; কিন্তু ভ্যাট দেন দেশের আপামর জনসাধারণ। চাল-ডাল কিনতে একজন ভিক্ষুক যে পরিমাণ ভ্যাট দেন, একজন কোটিপতিও একই পরিমাণ দেন। ২০টি আইটেমের ওপর ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হয়েছে। এটি কখনোই গরিববান্ধব বাজেট হতে পারে না।

আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে মধ্যবিত্তরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুর্নীতি ও লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এডিসিপি (অউঈচ) বরাদ্দের ৫০ শতাংশও উন্নয়নের কাজে লাগে না। জবাবদিহিতা ও সমতা যাচাই ছাড়া এই বিশাল বরাদ্দ আসলে ‘হরিলুটের’ পরিকল্পনা।

নাজিবুর রহমান বলেন, বাজেটের বড় অংশ খরচ হচ্ছে সুদ পরিশোধে। আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শামিল এই সুদের বোঝা মাথায় নিতে চাই না। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে আমাদের সুদের ওপর নির্ভর করতে হতো না। জাকাত থেকে দুই লাখ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করলে দারিদ্র্যবিমোচন সহজ হবে।

আলোচনায় তিনি নদী ও জলাশয় রায় ‘জাল যার জলা তার’ নীতিকে আইনি ভিত্তি দেয়া এবং বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তিনি আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের সমালোচনা করে বলেন, আদ-দ্বীনে মাত্র আড়াই শত টাকা দিয়ে ডায়ালাইসিস করা হতো। অথচ বাজেটে ডায়ালাইসিসের কর মওকুফের কথা বলা যেন ‘গরু মেরে জুতো দানের মতো’।

১/১১-এ তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিচার দাবি শাম্মী আক্তারের : বিগত ১/১১-এর সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, এ ঘটনার মুখোশ উন্মোচন এবং বিচার না হলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনার অংশ নিয়ে শাম্মী আক্তার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেছেন, এখনো যদি এক্সরে করা হয় তার মেরুদণ্ডের হাড়টি বাঁকা হয়ে জোড়া লেগেছে। তিনি বলেছেন তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না। তিনি প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, এটি থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে চান। এটি অবশ্যই একটি দেশের জন্য, রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। কিন্তু প্রতিশোধ না নেয়া মানে বিচারহীনতা নয়। আমরা চাই ১/১১-এর সরকারের সময়ে তার উপরে যে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে, এই ঘটনার মুখোশ উন্মোচন করা হোক এবং এই ঘটনার আমি বিচার দাবি করছি। বিচার যদি না হয় তাহলে পরবর্তীতে এই ঘটনা আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দলের বন্ধুরা যারা বলেন যে সরকারের হাতে কি আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ আছে কি না; আমি বলতে চাই সরকারের আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগের চিন্তা না করে আসুন আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আসুন আপনারা আমরা সকলে মিলে এই বাজেট বাস্তবায়ন করি, যেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এই দেশের জনগণের জন্য, এই দেশের কল্যাণের জন্য, এই দেশের সমৃদ্ধির জন্য। আসুন সকলে মিলে সেই বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করি।

বাজেট আলোচনায় আরো অংশ নেন, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, কাজী রফিকুল ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, আতিকুল আলম, মারজিয়া বেগম, মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া, নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সাবিকুন্নাহার, শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, আব্দুল আলিম, সেলিম রেজা, মাহমুদুল হক রুবেল, রবিউল আউয়াল প্রমুখ।