পঁয়ষট্টির চর জেলেদের জন্য আশীর্বাদ, সাথে অভিশাপও
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ, পঁয়ষট্টির চর, ভোলা থেকে ফিরে
‘সাগরের বুকে অসংখ্য ডুবোচর আছে। এই চরগুলো মাছ শিকারের জন্য আদর্শ। ইলিশের মৌসুমে এই চরগুলো জেলেদের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু থাকে।’ ২০২৪ সালে সোনার চর শুঁটকি পল্লীতে এই তথ্য দিয়েছিলেন ভোলা থেকে যাওয়া কিছু শুঁটকি শ্রমিক। তখন গভীর সাগর থেকে একটি ট্রলার এসে থামল সোনার চরে। সেই ট্রলার থেকে বেলচা দিয়ে ছোট মাছ তুলে রাখা হচ্ছিল। এই ছোট মাছ বলতে অতি ছোট পোনাও বাদ যায়নি। এমন অনেকগুলো ডুবোচর আছে গভীর সমুদ্রে। যেগুলো জোয়ারের সময় ডুবে যায়। ভেসে উঠে ভাটার সময়। ভোলার তারুয়ার চরের সনিয়া রিসোর্টে সাবেক মালিক পক্ষের লোক হাসান এই তথ্য দিয়ে যে কয়েকটি চরের নাম বললেন এর একটি ছিল পঁয়ষট্টির চর। চর কুকরি মুকরি বা তারুয়ার চর থেকে দক্ষিণে দুই ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে গেলে এই চরের সন্ধান পাওয়া যায়। অবশ্যই এই চর দেখতে যেতে হবে ভাটার সময়। কারণ জোয়ারে এই চর পানির নিচে ডুবে থাকে। আবার ফিরেও আসতে হবে জোয়ারের আগে আগে। কুকরি মুকরির মাঝি জাকির বক্স, পটুয়াখালীর মাঝি আবদুর রশীদরা এভাবেই তথ্য দিলেন। সেখানে বড় ট্রলার নিয়ে যেতে হয়। ছোট ট্রলারে ভয় থাকে। ঢেউয়ে উল্টে তলিয়ে যেতে পারে। তবে বড় ট্রলারে ভাড়া বেশি লাগে। অবশ্য খরচ বাঁচানোর জন্য আমি অপেক্ষাকৃত ছোট ট্রলার নিয়েই রওয়ানা হলাম। বড় ট্রলার দুই দিনের জন্য চেয়েছিল ২৮ হাজার টাকা। ছোট ট্রলারে আমি ১৪ হাজার টাকায় সাগর পরিভ্রমণ শেষ করেছি। অবশ্য গভীর সাগরে গিয়ে দেখি আরো ছোট ট্রলার নিয়েও জেলেরা মাছ ধরছে। আসলে শীতকালে সাগরের পানি পুকুরের পানির মতো ঢেউহীন থাকে। তাই ছোট ট্রলার নিয়ে যাওয়া। বর্ষায় বিশাল বিশাল ঢেউ। তখন কোটি টাকার বড় বড় ট্রলারও রক্ষা পায় না।
এই পঁয়ষট্টির চর জেলেদের জন্য আশীর্বাদ। সাথে অভিশাপও। কারণ এই চরের আশপাশে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। বিশেষ করে ইলিশের সময় ইলিশ মাছ। এ ছাড়া অন্য জাতের মাছও আছে। তাই মাছ ধরার মৌসুমগুলোতে এই চরের আশে পাশে থাকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জেলেদের ট্রলারের উপস্থিতি। পাশাপাশি এই চর জেলেদের জন্য অভিশাপও। বহু ট্রলার ডুবি এবং জেলেদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে এই পঁয়ষট্টির চরের সাগরের এলাকায়। চর মোন্তাজের মাঝি আবদুর রশীদ জানান, আমার জানা মতো এই চরের এলাকায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ট্রলার ডুবি হয়েছে। প্রতিবারই এখানে ট্রলার ডুবে যায়। প্রতি সিজনে এ এলাকায় প্রাণ হারায় ২০/৩০ জন জেলে। যোগ করেন, ‘৪/৫ বছর আগে আমি দু’জনকে উদ্ধার করেছিলাম। আগের রাতে তাদের ট্রলার ডুবে গিয়েছিল। ফলে তারা কোমরে জালের প্লুট বেঁধে ভেসেছিল। এরপর আমি দেখে উদ্ধার করি। গত বছর পঁয়ষট্টির চরের পশ্চিমে রুপার চরের দক্ষিণে দু’টি ট্রলার থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ জন জেলেকে। এরা চার দিন ধরে ভেসেছিল সাগরে।’ এরপর বিস্ময়ের সাথে রশীদ জানান, ‘আল্লাহই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। এভাবে তো বাঁচারই কথা না। কয়েকজনের পায়ের মাংস পটকা মাছ ও কাঁকড়া খেয়ে ফেলেছিল। অন্য জেলেরা তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডকে খবর দেয়। এরপর কোস্ট গার্ড তাদের নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। ৩/৪ দিন পর তাদের জ্ঞান ফিরেছে। এরা ছিল পটুয়াখালীর মহিপুরের জেলে।’
কেন এই এলাকায় জেলেদের এতো প্রাণহানি? কুকরি মুকরির জাকির বক্স, হোসেন মাঝি জানান, ‘ঝড়ের মৌসুমে ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে জেলেরা যখন এই এলাকা দিয়ে রাতে দ্রুত তীরে ফেরার চেষ্টা করেন তখন ডুবোচরের সাথে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা লাগে ট্রলারের। এসব ডুবোচরের এলাকায় ঢেউ বেশি থাকে। একে তো উত্তাল সাগর। বিশাল বিশাল ঢেউ। এতে ট্রলার উল্টে গেলেই সর্বনাশ। ডুবোচরের সাথে ধাক্কা লাগা এবং এরপর ৩/৪ তলার সমান উঁচু ঢেউয়ের বাড়ি। এতে ট্রলার উল্টে যায়। তখনই ঘটে এই প্রাণহানি।’ জেলেরা জানান, ঢেউয়ে উল্টে যাওয়া কোটি টাকার ট্রলার ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই ভেঙে যাবে। রাতের অন্ধকারে জেলেদের পক্ষে কোনো দিক শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে নিশ্চিত মৃত্যু। কেউ যদি জালের প্লুট শরীরে বেঁধে ভেসে থাকতে পারেন এবং অন্য ট্রলারের মাঝিদের নজরে পড়েন এবং তারাও যদি উদ্ধার করতে পারেন তাহলে রক্ষা। না হলে আর বাঁচানো সম্ভব হয় না। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে ভেসে থাকা ট্রলারের জেলেদের রশি ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। পানিতে ভাসতে থাকা জেলে এবং মাঝিরা যদি সেই রশি ধরতে পারেন তাহলে উদ্ধার করা হয়। রশি ধরতে না পারলে তার জন্য আবার রশি ফেলার সময়ও জোটে না। তখনই ওই পানিতে পড়ে যাওয়া জেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। জেলেদের দেয়া তথ্য, বেশির ভাগ সময়েই ভেসে থাকা ট্রলার একবারের বেশি ভাসতে থাকা জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে পারে না। কারণ তাদেরও প্রবল ঢেউ থেকে নিজেদের ট্রলারটি রক্ষা করার বিষয় আছে। ট্রলার ঘুুরিয়ে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ট্রলারও ডুবে যেতে পারে। এই এলাকায় বেশ কয়েক বছর আগে ৬৫ পাওয়ার হর্সের একটি ট্রলার ডুবে গিয়েছিল। তাই এই চরের নাম দেয়া হয়েছে পঁয়ষট্টির চর। ১৫/১৬ বছর আগে এই চর জেগে উঠে। জানান জাকির মাঝি। অবশ্য চর মোন্তাজের রশীদ জানান, আমরা এই চরকে লাল চর বলি। আর কুকরি মুকরি এবং ঢাল চরের মাঝিরা একে পঁয়ষট্টির চর বলে ডাকে।
আমরা চর নিজাম বা চর কালকিনি থেকে সকাল ৮টায় রওয়ানা হলাম পঁয়ষট্টির চরের উদ্দেশ্যে। পূর্ব ঢাল চর, এবং তারুয়ার চরের পাশ দিয়ে দক্ষিণে ছুটে চলল আমাদের ট্রলার। তিন ঘণ্টা পর দূর থেকে দেখা মিলল পঁয়ষট্টির চরের। মাঝি জাকির বক্স আগেই জানিয়েছিলেন ট্রলার নিয়ে পঁয়ষট্টির চরের পাড়ে নামা যায় না। তীরে সাগরের গভীরতা হাঁটু পানির সমান। তাই সাথে ছোট একটি নৌকা দিতে হয়। আমাদের হোসেন মাঝি এই এলাকায় আগে আসেননি। তিনি অন্য মাঝি দিয়ে সাগরে ট্রলার চালান। তাই তিনি চিনতে পারছিলেন না কোথায় এই পঁয়ষট্টির চরের অবস্থান। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকটি ট্রলারের মাঝিকে জিজ্ঞাসা করে তিনি পঁয়ষট্টির চরের সন্ধান পেলেন। অবশ্য এজন্য গভীর সাগরে আমাদের বেশ কিছুক্ষণ ঘুরতে হয়েছিল। দূরে একটি ট্রলার দেখলে সেখানে ট্রলার চালিয়ে গিয়ে তার কাছে সন্ধান চাইতাম। এভাবে আমাদের সময় যেমন নষ্ট হয়েছে : তেমনি ট্রলারের তেলও পুড়েছে।
যেহেতু হোসেন মাঝি আগে পঁয়ষট্টির চরে আসেননি তাই সেখানে চরে নামতে যে ছোট নৌকা লাগে তা তার জানা ছিল না। সাথে সহকারী ১৪/১৫ বছরের রাতুলের অভিজ্ঞতা আছে এই চরে আসার। তাই সে আমাদের যাত্রার মাঝ পথেই বলল এই ট্রলার পঁয়ষট্টির চরে যেতে পারবে না। যেহেতু আমাদের সাথে ছোট নৌকা নেই তাই দূরে নেমে পানি ডিঙিয়ে সেখানে যেতে হবে। আমরা দূর থেকে হালকা উঁচু স্থানের দেখা পেলাম। রাতুল নিশ্চিত করল এটিই পঁয়ষট্টির চর। কাছে যেতেই ডুবোচরে আটকে যাচ্ছিল ট্রলার। ফলে হোসেন মাঝির নির্দেশে বড় একটি বাঁশ হাতে নিয়ে সাগরে লাফিয়ে নামল রাতুল। এরপর আস্তে আস্তে আগে বাঁশ গেঁথে গেঁথে পানির গভীরতা পরিমাপ করে সে এগোতে থাকল। এরপর রাশেদ এবং পরে আমি। ট্রলারের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখার জন্য হোসেন মাঝি ট্রলারেই থেকে গেলেন। আমরা প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার সাগরের ঠাণ্ডা এবং নোনা হাঁটু পানি ডিঙিয়ে পৌঁছলাম পঁয়ষট্টির চরে।
দূর থেকেই আমাদের চোখে ধরা পড়ল চরে একজন জেলে হাঁটাহাঁটি করছেন। কাছে এসে দেখলাম সে ১০/১২ বছর বয়সের একটি ছেলে। চরের শুকনা অংশে গাছের ডালে জাল পাতছে। সাথে ময়লা পরিষ্কার করছে। নাম জিজ্ঞাসা করতেই জানালো আইয়ুব আলী। তার বাড়ী পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে। পেটের দায়ে এই অল্প বয়সেই গভীর সাগরে মাছ ধরে। তবে আর কোনো কথাই বলতে চাইল না সে। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে থাকা এই চরে তাকে একাই পেলাম। অনেক দূরে তার সাথের অপর মাঝি। তবে তাকে খালি চোখে আর দেখতে পাচ্ছিলাম না। বঙ্গোপসাগরের ডুবোচরগুলোতে এভাবেই ভাটার সময় বিশাল এলাকা জুড়ে জাল পাতে জেলেরা। এরপর জোয়ারের সময় মাছ আটকা পড়ে। জোয়ার থাকতে থাকতেই সেই জাল তোলে। প্রচুর মাছ পাওয়া যায় তখন। ভাটা শুরুর আগে জাল না তুললে সেই জাল কাদায় আটকা পড়ে। এতে কয়েক লাখ টাকার জাল নষ্ট হয়। মূলত ইলিশ মাছই বেশি ধরা পড়ে পঁয়ষট্টির চরে। সাথে পোয়া, কোরাল, তুলার ডান্ডিসহ নানা জাতের মাছ। আমরা দেখলাম আইয়ুব আলীর জালে আটকা ছিল কয়েকটি ছোট সাইজের জেলি ফিশ। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে আমরা আবার পানিতে নামলাম। ট্রলার তখন অনেক দূরে। জোরে ডেকে ট্রলারে থাকা হোসেন মাঝিকে বলা হলো ট্রলারকে আরো কাছে আনতে। কারণ যে হাঁটু পানি ডিঙিয়ে আমরা এসেছি সেখানে এখন পানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। মাঝি ট্রলার মোটামুটি কাছে আনার পর আমরা লাফিয়ে ট্রলারে উঠলাম। তবে ট্রলার বালিতে আটকে থাকায় স্টার্ট দেয়া যাচ্ছিল না। তাই রাতুল ও রাশেদ মিলে ঠেলতে থাকল ট্রলার। কিছুক্ষণ এই কাজ করার পর বালি থেকে মুক্তি। এরপর চর পাঙ্গাইসার উদ্দেশ্যে ছুটল আমাদের ট্রলার। এ জন্য পঁয়ষট্টির চর থেকে উত্তর দিকে কুকরি মুকরির কাছে এসে এরপর দক্ষিণ পশ্চিমে যেতে হবে।
আমরা যখন পঁয়ষট্টির চরে নেমেছিলাম তখনই হোসেন মাঝি রান্নার কাজ শুরু করেন। শিম, আলু আর টমেটো দিয়ে ইলিশ মাছের তরকারি। সাথে আলু ভর্তা, টমেটো ভর্তা ও ডাল। রাশেদ আবার চেউয়া মাছের শুঁটকি দিয়ে রান্না করল তরকারি। মজাদার এই তরকারি দিয়ে পেট ভরে ভাত খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম। প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রলার চলার পর হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল ট্রলারের ইঞ্জিন। আমাদের অবস্থান তখনও গভীর সাগরে। হোসেন মাঝি তাৎক্ষনিক তৎপর হয়ে উঠলেন। সাথে অল্প বয়সের মাঝি রাতুলও। তারা চেষ্টা করেও চালু করতে পারলেন না ট্রলারের ইঞ্জিন। মাঝ সাগরে এভাবে ট্রলারের ইঞ্জিন বন্ধ হওয়া মানে বিপদ। তখন অন্য ট্রলার ধারে কাছে পাওয়া গেলে তারা যদি উদ্ধার করে তাহলে রক্ষা। তা না হলে ভেসে থাকতে হবে। এই অবস্থায় মাঝিরা পাল তুলে দেন। এতে বাতাস যে দিকে ট্রলারকে নিয়ে যাবে সে দিকেই যেতে হবে। এরপর যেখানে অন্য ট্রলার পাওয়া যাবে সেখানে উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ। অবশ্য এই উদ্ধারটা বিনা পয়সায় হয় না। টাকা বা ট্রলার চালানোর তেলের বিনিময়ে তারা সাহায্যের হাত বাড়ান। অনেক সময় সাগরে প্রচণ্ড ঢেউ থাকলে এবং তখন ট্রলার উল্টে গেলে সব শেষ। কয়েক বছর আগে তিন চর এলাকায় এভাবে একটি নষ্ট হওয়া ট্রলার টেউয়ে উল্টে মুহূর্তেই ভেঙে যায়। এতে ওই ট্রলারের ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়। বাকি তিন জন ভেসে যায়। মানে মারা গেছে। জানান রাতুল। সেই উদ্ধার করেছিল ১২ জনকে।
আমাদের ট্রলারের ইঞ্জিনটা নষ্ট হয়েছিল কুকরিমুকরির মোটামুটি কাছেই। দূর থেকে আবছা আবছা দেখা যাচ্ছিল কুকরি মুকরির বনের গাছ। এতে সাহসটা বেশি ছিল মাঝির। তখন তিনি ফোন দিলেন আরেক মাঝিকে। ভাগ্য ভালো সেই মাঝি তখন তারুয়ার চরে পর্যটকদের নামিয়ে ফিরছিলেন কুকরি মুকরির দিকে। ফলে তাকে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি রাজি হন। আধাঘণ্টা পর এসে তার ট্রলারের সাথে আমাদের ট্রলারকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসেন কুকরি মুকরি খেয়া ঘাটে। এতে করে আমাদের আর ওই দিন পাঙ্গাইসসার চরে যাওয়া হলো না। কারণ তখন পাঙ্গাইসসার চর জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। তাই পরের দিন নেয়া হবে এই আশ^াস দিলেন হোসেন মাঝি। কারণ তার ট্রলারের ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার কারণেই এই বিপত্তি।