আইন ভাঙলে স্পটেই ৭ বছর কারাদণ্ড
ভোট গ্রহণে প্রস্তুত দেশ, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আজ
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সারা দেশে আজ একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ব্যালট পেপার, বাক্স, অমোচনীয় কালি ও নিরাপত্তার বহর নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। পাহাড় থেকে উপকূল, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শহর ও গ্রাম; সবখানেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন। ভোট গ্রহণের অন্যান্য সরঞ্জাম কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পৌঁছে গেছে ভোটকেন্দ্রগুলোতে। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে। দুর্গম কেন্দ্রে হেলিকপ্টার, কোথাও জিপ গাড়ি, আবার কোথাও নৌপথে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রভেদে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, মোতায়েন রাখা হয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের। ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই নেয়া হয়েছে এই ব্যাপক প্রস্তুতি।
বগুড়া অফিস ও দুপচাঁচিয়া সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার ১২টি উপজেলায় ৯৮১টির বেশি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে ২৯ লাখের বেশি ভোটার ভোট দেবেন। অধিকাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুপচাঁচিয়ায় আট প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র্যাব, সেনাবাহিনী, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার বলেন, জেলার ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, চৌহদ্দি নির্ধারণ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টহল নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনী অনিয়ম রোধে মাঠে রয়েছেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, জেলার ২৩৭টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছেছে। একই সাথে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার ৩৮১টি কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছাচ্ছে। এর মধ্যে ২২৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় ৬০০ সেনা সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ও কালিগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, জেলার ৫৮৮টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। চারটি আসনে মোট ভোটার ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭৫ জন। প্রায় ১১ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভোটের দায়িত্বে থাকবেন।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার ৮৪৪টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে তিনটি দুর্গম কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। বাকি ২০০ কেন্দ্রে চাঁদের গাড়ি বা জিপে করে মালামাল পৌঁছে দেয়া হয়। এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪ জন। মানিকছড়ি উপজেলার ২১টি কেন্দ্রে ভোটার ৫৯ হাজার ৬০০ জন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সব কেন্দ্রে নিরাপত্তাসহ সরঞ্জাম পৌঁছেছে।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুর-১ আসনে নির্বাচনকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ গ্র্যান্ড ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিবচরের হাতির বাগান মাঠে আয়োজিত এ প্যারেডে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা অংশ নেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, টহল জোরদার, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের কার্যক্রমসহ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
লংগদু (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা জানান, লংগদু উপজেলার ২২টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ভোটার ৬৭ হাজার ২৬৪ জন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনটি সেনা ক্যাম্প ও ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুর-২ আসনের ১৫৫টি কেন্দ্র ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত। মোট ভোটার পাঁচ লাখ এক হাজার ৬১ জন। এর মধ্যে ২২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার আওতায় ভোটগ্রহণ হবে।
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুর-৬ আসনের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৩৬টি ভোটকেন্দ্রে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৫৬টি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে কেন্দ্রগুলো। প্রশাসনের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় ভোটারদের আস্থা বেড়েছে। এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ জন।
কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, খুলনা-৬ আসনের কয়রা উপজেলায় ৬৭টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ৪৬টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহতারম বিল্লাহ বলেন, সব উপকরণ কঠোর নিরাপত্তায় বিতরণ করা হচ্ছে।
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর চারটি আসনের ৫১৩টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, জেলার পাঁচটি আসনের ৬৬৩টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯৩ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। মোট ভোটার ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন।
লক্ষ্মীছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ১২টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। দুর্গম দুটি কেন্দ্রে হেলিকপ্টারে মালামাল পৌঁছে দেয়া হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।
পোরশা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁ-১ আসনের অংশ পোরশা উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম বিতরণ শেষ হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে।
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা জানান। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৬৭টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ সিসি ক্যামেরার আওতায় ভোটগ্রহণ হবে। দুই লাখের বেশি ভোটারকে নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সব নির্বাচনী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
দেশজুড়ে প্রস্তুতির অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা ভোটারদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ। প্রশাসনের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে শেষ হবে জাতীয় নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ মহোৎসব।