রংপুরে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে উত্তেজনা ৩ ও ৪ আসনে বৈধ ১৪, বাতিল ৬
‘জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে’
Printed Edition
সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর
রংপুরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচন অযোগ্যতার অভিযোগ তোলা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে রংপুর-৩ ও রংপুর-৪ আসনে মোট ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রংপুর-৪ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলাকালে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাছের শাহ মো: মাহবুবুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা করতালি দেন। এ সময় বিরোধিতা করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি ও হই চই শুরু হয়।
মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় এনসিপির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে। তিনি ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, এখানে নিয়ম অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে মতামত দিবে। তখন সেখানে উপস্থিত প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা জাতীয় পার্টির এই প্রার্থীর ব্যাপারে আপনার কাছে আপত্তি দিয়ে রাখলাম। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলে দুই পক্ষের মধ্যে হই চই ও উত্তেজনা শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানোর পর পরই আখতার হোসেন তার নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইনের মারপ্যাঁচে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে সুযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জাতীয় পার্টিকে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান। এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনটি ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট হয়েছে। তবে আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রেখেছে এবং ভোটের মাঠেই জনগণ তা প্রমাণ দেবে।
রংপুর-৩ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে সাতজনের মনোনয়ন বৈধ এবং তিনজনের বাতিল হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাবলু এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান রাজু।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির জিএম কাদের, বিএনপির সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস, খেলাফত মজলিসের নুর আলম সিদ্দিক এবং ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী।
রংপুর-৪ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের মনোনয়ন বৈধ ও তিনজনের বাতিল হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার, জাতীয় পার্টি পরিচয়ে আবেদনকারী আব্দুস সালাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নুল আবেদীন। এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- এনসিপির আখতার হোসেন, বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির আবু নাছের শাহ মো: মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর প্রগতি বর্মন তমা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় এবং খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।