কেশবপুরে ২৫ বছরের রক্তক্ষয়ী বিরোধের অবসান

Printed Edition

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে একটি বিলের মালিকানা ও লিজকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী বিরোধের অবসান ঘটেছে। পুলিশের মধ্যস্থতায় বিরোধে জড়িত দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছলে গ্রামজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়।

গত শনিবার রাতে আলমডাঙ্গা থানায় পুলিশের উদ্যোগে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন বিরোধে জড়িত ‘সালাম গ্রুপ’ ও ‘মনসুর আলী চেঙ্গিস খান গ্রুপ’-এর প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ সমাধানে সম্মত হন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে কেশবপুর গ্রামে বহু বছর পর মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে থানায় ও আদালতে অন্তত ২০-২২টি মামলা চলমান ছিল। হামলা-পাল্টা হামলা এবং সংঘর্ষে গ্রামজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধ নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেয় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় আলোচনায় নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও অংশ নেন। আলমডাঙ্গা থানার ওসি বাণী ইসরাঈল বলেন, আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক সমঝোতা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকি বিষয়গুলোও তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। গ্রামবাসীরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক আপসনামায় স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। দুই পক্ষই ভবিষ্যতে কোনো বিরোধে গ্রামবাসীকে জড়াবে না বলে অঙ্গীকার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘদিনের এই সঙ্ঘাতের অবসান হওয়া দরকার ছিল। দেরিতে হলেও একটি রক্তক্ষয়ী বিরোধের সমাপ্তির পথে পৌঁছানো গেছে। সমঝোতার পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিষ্টিমুখ করেন কেশবপুরের বাসিন্দারা।