জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। এছাড়া এবারের সফরে সিরিজের একমাত্র টেস্টেও হারের লজ্জা পেয়েছে টাইগাররা। তাই আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ।
ওয়ানডে ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পাল্লা ভারী বাংলাদেশের। ৮১ ম্যাচ খেলে ৫১টিতে জয় ও ৩০টিতে হেরেছে টাইগাররা। কিন্তু ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে সর্বশেষ মুখোমুখি হওয়া তিন ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া গেল সপ্তাহে জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট ম্যাচে শোচনীয়ভাবে হেরে যায় টাইগাররা।
ব্যাটার ও বোলারদের ব্যর্থতার ইনিংস ও ৮৫ রানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। দুই ইনিংসের একটিতেও ২০০ রান স্পর্শ করতে পারেনি টাইগাররা। আর বোলারদের ব্যর্থতায় নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪১০ রান তুলে ম্যাচ জয়ের পথ তৈরি করে ফেলে জিম্বাবুয়ে।
তাই সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ ও সদ্য টেস্ট হারের ক্ষত নিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা। কারণ নিজেদের সর্বশেষ চার সিরিজের সবগুলোই জিতেছে বাংলাদেশ।
২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের কাছে হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তবে সবগুলোই সিরিজই ঘরের মাঠে ছিল। তাই জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ হওয়ায়, টাইগারদের জন্য বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
সফরের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি তৃতীয় দিনে শেষ হওয়ায় ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতির জন্য বাড়তি দুই দিন সময় পেয়েছে বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টে হারের ভুল নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সাদা বলের সিরিজের জন্যও নিজেদের প্রস্তুতি করছে টাইগাররা।
টেস্ট ম্যাচে দলের কয়েকজন মূল পেসারকে বিশ্রাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ওয়ানডে সিরিজে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই ২২ গজে লড়বে টাইগাররা।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ী সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের দল ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। শুধুমাত্র সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডের আগে হঠাৎ দলে সুযোগ পাওয়া শেখ মাহেদি হাসান বাদ পড়েন।
ইনজুরির কারণে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে খেলেননি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও খেলবেন না তিনি।
আগামী ৬ জুলাই থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। সিরিজের পরের দুই ম্যাচ হবে যথাক্রমে- ৯ ও ১১ জুলাই। সিরিজের সবগুলো ম্যাচ হারারেতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৫ জুলাই থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দু’দল।
বাংলাদেশ দল : মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।
জিম্বাবুয়ে দল : রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধভেরে, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, আর্নেস্ট মাসুকু, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরি, সিকান্দার রাজা।