ঝিনাইদহ-৩ আসনে রেকর্ড ভাঙতে চায় জামায়াত

Printed Edition

রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহর ও গ্রামে সমানতালে গণসংযোগ চালাচ্ছেন বিএনপির (ধানের শীষ) প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি এবং জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) প্রার্থী মতিয়ার রহমান। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর বাইরে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন (হাতপাখা) এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সুমন কবির (ট্রাক)।

ভারত সীমান্তঘেঁষা এই আসনটি মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। মহেশপুরে রয়েছে একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন এবং কোটচাঁদপুরে একটি পৌরসভাসহ পাঁচটি ইউনিয়ন। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে প্রায় তিন লাখের বেশি ভোটার মহেশপুর উপজেলায় এবং দেড় লাখের বেশি ভোটার কোটচাঁদপুর উপজেলায় অবস্থান করছেন।

স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদ নির্বাচনের প্রতিটিতেই মহেশপুর উপজেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কোটচাঁদপুর উপজেলা থেকে এখনো কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হওয়ায় এবার সেই রেকর্ড ভাঙতে চায় জামায়াত। অন্য দিকে বিএনপি প্রার্থী মেহেদী হাসান রনিও বিজয় নিয়ে আশাবাদী।

ধানের শীষের প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের সন্তান। অপর দিকে জামায়াত প্রার্থী মতিয়ার রহমান কোটচাঁদপুর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কোটচাঁদপুর শহরের কলেজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাস করছেন। স্থানীয়ভাবে এই আসনকে জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের এই লড়াইয়ে দুই প্রার্থীই সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে মহেশপুর উপজেলা অডিটোরিয়াম মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে হাজার হাজার নারী এতে অংশ নেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত প্রার্থী মতিয়ার রহমান নারীদের সচেতন ও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ন্যায় ও আদর্শভিত্তিক সমাজ এবং টেকসই উন্নয়ন গঠনে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ভোট রয়েছে, যেখানে জামায়াত প্রার্থী তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর দিকে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ভোটারের মহেশপুর উপজেলাও জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সব মিলিয়ে এ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।

জামায়াত প্রার্থী মতিয়ার রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব।’

অন্য দিকে বিএনপি প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি বলেন, ‘আমার বাবা শহিদুল ইসলাম চারবার সংসদ সদস্য হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বাবার সেই সুনামকে সামনে রেখে ভোটাররা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। নির্বাচিত হলে তার দেখানো পথেই এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।’