গৌরীপুরে ফিলিং স্টেশনের ৫৮ হাজার লিটার তেল গায়েব

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জ্বালানি সঙ্কটের প্রোপটে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল ‘উধাও’ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অভিযানে তেল মজুদ, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে ওই ফিলিং স্টেশনের মালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্টেশনের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’-এ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেণের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো: আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও সরবরাহ-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

কিন্তু মজুদ ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশনের ম্যানেজার মো: জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে এবং বাকি তেলের কোনো তথ্য তার কাছে নেই। এই বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুদ এবং কালোবাজারির প্রমাণ মেলে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার জ্বালানির কোনো হিসাব না পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি ‘গায়েব’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মো: আফসারুল ইসলাম বাদি হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ মতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

গৌরীপুর থানার ওসি মো: কামরুল হাসান বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুদ ও কালোবাজারির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

জানা গেছে, ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে হাফেজ আজিজুল হক বলেন, ‘স্টেশনে আনা তেল নিয়মিত বিক্রি করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অযথা হয়রানি করেছে।’