শোক ও শ্রদ্ধায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে গতকাল মঙ্গলবার পালিত হলো সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সর্বমহলে সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন এই ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান ঘটেছিল ৮৩ বছর বয়সে।
সদা হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী, অমায়িক, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর সাদা মনের মানুষ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা কিংবদন্তি সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ ন্যাশনের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি।
গতকাল সকালে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তার কবরে দোয়া ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্য, স্বজন-শুভাকাক্সক্ষীরা তার কবরের পাশে গিয়ে ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে জাবেদ হোসেন, ছোট ছেলে ও দ্য নিউ ন্যাশনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরশাদ হোসেন, ভাগ্নে মহিবুল আহসান, নাতনি আরিশা হোসেনসহ পরিবারের সদস্য, দৈনিক ইত্তেফাক ও দ্য নিউ ন্যাশনের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এর পর বাদ জোহর আর কে মিশন রোডের ইত্তেফাক ভবনে মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে পরিবারের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে জাবেদ হোসেন, ছোট ছেলে ও দ্য নিউ ন্যাশনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরশাদ হোসেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক, আইনজীবী এবং নিউ ন্যাশনের সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালে ১৯৭৩ সালে পিতৃভূমি পিরোজপুর থেকে প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মইনুল হোসেন। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রচলন করা হলে গণতন্ত্রের পক্ষে থেকে তিনি সংসদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন দক্ষতার সাথে।
তিনি সামরিক স্বৈরাচারের তীব্র সমালোচক ছিলেন। বলিষ্ঠ প্রতিবাদী অবস্থানের কারণে তিনি ছিলেন জাতির বিবেক ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ২০০০-২০০১ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য। শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণে আইন অঙ্গনের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ সিনিয়র আইনজীবীর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন সাংবিধানিক মামলায় আদালতের আহ্বানে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মত তুলে ধরেন তিনি। অসংখ্য আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাও পরিচালনা করেছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।
গণতন্ত্র, গণ-মানুষের ভোটাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাওয়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আজীবন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে।