অসময়ে যমুনার ভাঙন, দেওয়ানগঞ্জে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

Printed Edition

খাদেমুল বাবুল জামালপুর

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অসময়ে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীপাড়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত প্রায় এক মাসে নদীতে বিলীন হয়েছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পাকা সড়ক, মসজিদ-মাদরাাসা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি থেকে চরডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে খোলাবাড়ি, হাজারী, মাগুরীহাট, চর মাগুরীহাট, খানপাড়া, মাঝিপাড়া, ডাকাতিয়া গুচ্ছগ্রাম, চরডাকাতিয়া ও চরডাকাতিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজারো বসতভিটা এবং শত শত একর ফসলি জমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনের কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়কও নদীতে চলে গেছে। এতে খোলাবাড়ি এলাকার সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এমন ভয়াবহ ভাঙনে স্থানীয় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

নদীভাঙনের কারণে গুচ্ছগ্রাম, কালাবর্ষা, চান্দের গ্রাম ও হামেদে গ্রামসহ অন্তত চারটি গ্রামের প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। কেউ কেউ অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। এলাকায় তেমন কোনো কাজকর্ম না থাকায় পরিবারগুলো চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান জানান, এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ১৫৭ মিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরো ২২০ মিটার এলাকায় কাজের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।