খাতুনগঞ্জে ক্রেতা সঙ্কটে হতাশ বিক্রেতারা
Printed Edition
দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ আদা, রসুন ও দেশী পেঁয়াজে একেবারে ঠাসা। দামও স্থিতিশীল। কিন্তু ক্রেতার অভাবে হতাশ সেখানকার বিক্রেতারা। গতকাল সোমবার খাতুনগঞ্জ ঘুরে এমনই চিত্র লক্ষ করা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দেশের বৃহৎ এ পাইকারি বাজারের সড়কজুড়ে সারি সারি ট্রাক। আর এসব ট্রাক ও মিনি ট্রাকে সারি সারি আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বস্তা। শ্রমিকরা ব্যস্ত এসব পণ্য ট্রাক হতে নামিয়ে আড়তে বোঝাই করতে। শ্রমিকদের যেন দম ফেলানোর ফুসরত নেই। একের পর এক পেঁয়াজ ও আদার বস্তা ট্রাক থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে। কিন্তু বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে মিলল হতাশার সুর। বাস্তবেও তাই পরিলক্ষিত হয়েছে। তেমন একটা ক্রেতার দেখা মিলেনি আড়ৎগুলোতে।
দাম স্থিতিশীল
বাজার ঘুরে দেখা গেছে ঈদের আগে যেই দাম ছিল এখনো অনেকটা কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব কাঁচাপণ্য। আদার দাম কেজিতে ২/৩ টাকা বাড়তি হলেও পেঁয়াজ এবং রসুনের দাম ছিল কম। তবে বিক্রেতাদের দাবি ক্রেতার অভাবে লোকসানেই পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, চায়না আদা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কেরালা আদা বিক্রি হচ্ছে ৮৮-৯০ টাকা দরে। চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৭৮ টাকা কেজি দরে। তবে আমদানিকারকদের ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে রসুনের দাম নিয়ে। তাদের মতে ১৮০ টাকায় প্রতিকেজি রসুন কিনে এনে এর ওপর সরকারকে ট্যাক্স এবং বন্দরে ভাড়া, গাড়িভাড়াসব মিলিয়ে ১৯৭ টাকা পর্যন্ত খরচ করে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৭৮ টাকায়।
ভারতীয় পেঁয়াজ নেই বললেই চলে
এদিকে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রতিবেশী দেশটি কথায় কথায় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধসহ অতিরিক্ত শুল্কারোপ করে এদেশের বাজারকে অস্থির করে রাখতো এমন অভিযোগ সব সময়ই ছিল। খাতুনগঞ্জের আড়ৎগুলোতে সারি সারি বস্তা বোঝাই মেহেরপুর, ফরিদপুর এবং পাবনার পেঁয়াজে ঠাসা। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখানে সবই দেশীয় পেঁয়াজ। এসব পেঁয়াজের মানও ভাল বলে তাদের দাবি। দামেও অনেক সস্তা। গতকাল প্রতিকেজি মেহেরপুরের পেঁয়াজ ২২-২৩ টাকা, ফরিদপুরের পেঁয়াজ ৩৫ টাকা এবং পাবনার পেঁয়াজ ৩৮ টাকা দরে বিক্রি করার কথা জানায় আড়তদাররা।
খাতুগঞ্জের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক জানান, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম রমজানের মতোই অনেকটা স্থিতিশীল। শুধুমাত্র ক্যারিং চার্জের কারনে ২/৩ টাকা বেড়েছে আদার দাম। রসুনের দাম রমজানের চাইতেও কমেছে বলে তিনি জানান।
মেসার্স মা ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর মনিরুল ইসলাম রিফাত জানান, এখনো ঈদের আমেজ কাটেনি। ফলে একদিকে ডেলিভারি কম, অন্যদিকে আড়ৎগুলো ক্রেতাশূন্য। শ্রমিকরাও পুরোদমে ফিরেনি। ফলে ক্যারিং চার্জের কারণে আদার দাম ২/৩ টাকা কেজিপ্রতি বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিক্রি স্বাভাবিক হলে তাও কমে যাবে।
মেসার্স শেলী এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর হাজী মোহাম্মদ ইয়াছিন বন্দরে ফ্রি টাইমের পর চারগুণ হারে রেন্ট আরোপে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই বাড়তি রেন্টগুলোতো ভোক্তাদেরই পরিশোধ করতে হচ্ছে। কাঁচামালের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই চারগুণ রেন্ট গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ আমদানিকারক বলেন, একমাস আগে প্রতিটন ১৪৬০ ডলারে বুকিং দেয়া আমদানিকৃত রসুন এখন বন্দর থেকে খালাস নেয়া হচ্ছে। কিন্তু বাজারে এর চাইতে অনেক কম দামে রসুন বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। কাঁচামালের সবাই এখন লোকসানে পণ্য বিক্রি করছেন বলেও তিনি জানান।