গাজায় ফিলিস্তিনি বন্দী নির্যাতনের ছবির সত্যতা স্বীকার ইসরাইলের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গাজায় আটক এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির ওপর নির্যাতনের একটি বহুল আলোচিত ছবি সত্য বলে স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ছবিতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তিকে চোখ বেঁধে তার দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উপুড় করে শুইয়ে রাখা হয়েছে এবং তার পিঠে একটি লোহার দণ্ড বেঁধে দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বাধীন তদন্তের দাবি জানায়। ইসরাইলের আর্মি রেডিওর বরাতে এক সামরিক মুখপাত্র জানান, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিটি বাস্তব এবং ঘটনাটি গাজা উপত্যকাতেই ঘটেছে। তবে এটি কোথায় বা কবে ঘটেছে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বন্দীরা নির্যাতন, অপুষ্টি ও চিকিৎসা অবহেলার শিকার হচ্ছেন এবং এসব কারণে ইতোমধ্যে বহু বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।

তিন মাসে খ্রিষ্টানদের ওপর ৮৩ বার হামলা

ইসরাইল ও ইসরাইল-অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে অন্তত ৮৩টি হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের বেসরকারি সংস্থা রিলিজিয়াস ফ্রিডম ডেটা সেন্টার (আরএফডিসি)। সংস্থাটির প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব হামলা ৭৬টি পৃথক ঘটনায় সংঘটিত হয়েছে এবং এর মধ্যে ৬৮টিই জেরুসালেমে ঘটেছে। খবর আনাদোলু অ্যাজেন্সির। জেরুসালেমের ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৬টি পুরনো শহর (ওল্ড সিটি), ১৩টি পশ্চিম জেরুসালেম এবং ৯টি মাউন্ট জায়ন এলাকায় ঘটেছে। এ ছাড়া হাইফা ও গ্যালিলিতে দু’টি, সি অব গ্যালিলি এলাকায় একটি, পশ্চিম তীরে একটি, বেইত শেমেশে একটি এবং মেভাসেরেত জায়নে দু’টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আরএফডিসি জানায়, সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে থুতু নিক্ষেপের ঘটনা। মোট ৮৩টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিতেই খ্রিষ্টান ধর্মযাজক বা সাধারণ বিশ্বাসীদের লক্ষ্য করে থুতু ছোড়া হয়েছে, যা মোট হয়রানির ৫৬ শতাংশ। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ঘটনা প্রকাশ্য দিবালোকে এবং এর চেয়েও আরো প্রকাশ্যভাবে ঘটছে। কিছু ঘটনায় অভিযুক্তরা ক্যামেরার সামনেই এমন আচরণকে ন্যায্য বলে দাবি করেছেন। এমনকি কিছু অভিভাবক নিজেদের সন্তানদের সামনেও খ্রিষ্টানদের গালিগালাজ ও থুতু নিক্ষেপে উৎসাহিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।