মে থেকে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ শুরু

‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

Printed Edition
first-3
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেলের কার্যক্রমের পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বস্তরে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদারের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করতে হবে। গতকাল সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন।

অন্য দিনের মতো গতকালও সচিবালয়ে নিজ দফতরে ব্যস্ত সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সাথে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেন।

দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানসহ চিকিৎসা উপকরণ নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্তি প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নীতি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এই ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে আরো সক্রিয় হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। এই বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রেসসচিব বলেন, শুধুমাত্র এলজিইডির পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে ১৭০টি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ও তার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার এরকম পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে সেগুলো ক্লিনিট ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনা দিয়েছেন।

দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সভায় আলোচনায় উঠে এসেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, প্রতি বছর ৩৪ লাখ নবজাতক জন্মগ্রহণ করে। অতিরিক্ত প্রেসসচিব বলেন, প্রতি বছর নবজাতক জন্মের যে পরিসংখ্যান দেয়া হয় বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়কে তৎপর হতে বলা হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী যার মধ্যে নারী ৮০ শতাংশ এবং পুরুষ ২০ শতাংশ নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৭৪ হাজার শূন্য পদে (চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী) নিয়োগের বিষয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেসসচিব। দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকরা যান সেজন্য মন্ত্রীকে তাগাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গতকাল সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সেলের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব গণমাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করতে বলেছেন। সারা দেশে পাঁচ বছরের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি নার্সারি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে বলা হয়, সারা দেশে খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর দুই পাড়ে, সড়ক-মহাসড়কের দুই ধারে, বনাঞ্চলে যেখানে বৃক্ষ নেই সেসব স্থানে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় প্রভৃতি স্থানে এসব বৃক্ষ রোপণ করা হবে। প্রতি শিক্ষার্থী একটি করে বৃক্ষ রোপণ করবে এবং সেই বৃক্ষ তারা পরিচর্চা করবে।

বৈঠকে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মে থেকে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাবে সরকার। পরিবেশ ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় সারা দেশে একযোগে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করবে সরকার।

তৈরী পোশাক খাতের (গার্মেন্টস সেক্টর) পরপরই এখন ‘কার্বন ট্রেডিং’ বা কার্বন বাণিজ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, তৈরী পোশাক খাতের পরপরই কার্বন ট্রেডিংকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চায়। এ ছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে জ্বালানি সঙ্কটের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও সরকার ওয়াকিবহাল রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

আনসার ডিজির সাক্ষাৎ : এদিকে দিনের প্রথম কর্মসূচিতে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখতে মহাপরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্বে তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ছাড়াও সরকারপ্রধান জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখতে বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীকে সদা প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।

এ সময় মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আনসার ও ভিডিপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।