সাভারে ট্যানারি শ্রমিকদের মজুরি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম

Printed Edition

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা

সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুর চামড়া শিল্পনগরীতে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন ট্যানারি শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন শেষে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে যেসব কারখানা নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বেতন পরিশোধের ঘোষণা দেবে না, সেসব কারখানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করা হবে।

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে হেমায়েতপুরের বিভিন্ন কারখানা থেকে শত শত নারী ও পুরুষ শ্রমিক খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ট্যানারি শিল্পের শ্রমিকদের জন্য পাঁচটি গ্রেডে (গ্রেড-১: ৩৪,১৬৮ টাকা থেকে গ্রেড-৫: ১৮,০০১ টাকা পর্যন্ত) ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও মালিকপক্ষ তা কার্যকর করেনি।

পরে মালিকদের অনুরোধে মজুরি কাঠামো কিছুটা সংশোধন (রিভাইজ) করা হয়। দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় শ্রমিকপক্ষ সেই সংশোধিত কাঠামো মেনে নিয়ে স্বাক্ষর করলেও মালিকপক্ষ গত কয়েক মাস ধরে তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। এর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শ্রমিকরা। শনিবার ছিল তাদের আন্দোলনের চতুর্থ দিন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক, শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম এবং নারী নেত্রী ঝর্ণা বেগম। বক্তারা বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে আমরা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার নির্ধারিত পাঁচটি গ্রেড বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’