এ্যালোরা একাডেমি : লক্ষ্য যাদের দেশ ছাড়িয়ে

জসিম উদ্দিন রানা
Printed Edition
khela-2
এ্যালোরা শাটলার একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মারুফ হায়দারের সাথে খেলোয়াড়রা : নয়া দিগন্ত

‘ভিশন টু উইন’ এই সে্লাগানকে সামনে রেখে দিনাজপুর সদরের কাশিপুরে গড়ে উঠেছে এ্যালোরা শাটলার একাডেমি। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসংবলিত এই ইনডোর একাডেমিতে থাকছে একজন ব্যাডমিন্টন প্লেয়ারের গড়ে ওঠার যাবতীয় উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা। স্বাস্থ্যসম্মত থাকার পরিবেশ, অত্যাধুনিক জিম ইনস্ট্রুমেন্ট, সুপরিসর ব্যায়ামাগার, মানসম্মত খাওয়া এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, দু’টি ব্যাডমিন্টন কোট, কোটসংলগ্ন স্ট্রেচিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা, নামাজের জায়গা, সার্টিফাইড প্রাকটিস শাটল, ক্যাম্পে থাকা শাটলারদের জন্য বিনামূল্যে র‌্যাকেট, জার্সি, কেডস, মোজাসহ সব কিছুই রয়েছে।

এত এত সুযোগ সুবিধা দিয়ে একটা প্রাপ্তিই চান এ্যালোরা শাটলার একাডেমির কর্ণধার মো: মারুফ হায়দার। তার প্রত্যাশা, ‘দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যাডমিন্টন জগতে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে চেনাবে এই একাডেমির শাটলাররা।’

কীটনাশক ব্যবসায়ী এই উদ্যোক্তা শখের বশে ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু করেন ২০২১ সালে। অন্য সবার মতো শীতের সিজনে এদিক-ওদিক খেললেও তিনি বেছে নেন সারোয়ার ব্যাডমিন্টন একাডেমিকে। উত্তরায় থাকা এই একাডেমি ভেঙে গেলে নতুন করে ভাবায় মারুফ হায়দারকে। প্রথমে একটা সিঙ্গেল কোট করলেও পরে সেটা ভেঙে আধুনিক পরিসরে নতুন করে তৈরি করেন এ্যালোরা। এখানে মূলত দুই ধরনের ট্রেনিং হয়। যারা ক্লাবের নিজস্ব খেলোয়াড় তাদের সম্পূর্ণ খরচ বহন করা হয়। দ্বিতীয়ত, যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে ট্রেনিং করতে আগ্রহী তারা টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন মেনে প্র্যাকটিস করবে।

মারুফ হায়দার বলেন, ‘অবশ্যই যারা এখানে আবাসিক ক্যাম্পে থাকবে, তাদেরকে একটা টার্গেট দেয়া হবে। সেটা তারা ফুলফিল করবে। এখানে যেমন চট্টগ্রামের আকিব, মোংলার লিকা পোদ্দার, হাসান ও হোসেন, মুন্সীগঞ্জের শুভ, সিলেটের মাসুদ ও রবিন, খাগড়াছড়ির রুদ্র, ইন্টার স্কুল চ্যাম্পিয়ন ফকির হাটের তানভির, শাহরিয়ার, বান্দরবানের সুই চিং মং মারমা রয়েছে।’

পড়ালেখা নিয়ে মারুফ বলেন, ‘অবশ্যই পড়ালেখা প্রায়োরিটি পাবে। কেউ যদি কোনো কারণে লাইন থেকে বিচ্যুত হয় তাহলে তাকে জীবনে কিছু একটা করার জন্য প্রয়োজন পড়বে। তখন পড়ালেখাই তার প্রধান অস্ত্র হবে।’

বিডব্লিউএফ লেভেল টু কোচ এবং বিডব্লিউএপ সিলেক্টেড টিউটরদের একজন অহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘মারুফ হায়দার ভাইয়ের উন্নত চিন্তাভাবনার প্রয়োগ ঘটাতে উনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। আমারও চেষ্টা থাকবে যোগ্য সমর্থন দিয়ে প্রতিফলন ঘটানোর। আমরা আগের মতো একই প্লেয়ার দিয়ে তিন ক্যাটাগরিতে (সিঙ্গেল, ডাবলস, মিক্সড ডাবলস) খেলাবো না। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা প্লেয়ার তৈরি করবো।’

খাগড়াছড়ি থেকে আসা রুদ্রর বাবা ব্যাংকার সমর ত্রিপুরা জানান, ‘প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন একাডেমিতে খোঁজ নিয়ে মনে হয়েছে এ্যালোরা তার স্বপ্ন পূরণে পাথেয় হবে। ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের জন্য যেগুলো দরকার, যেমন ভালো কোচ, খাবার, বাসস্থান, মাঠ, পরিবেশ সবই এখানে বিদ্যমান। তাই আকৃষ্ট হয়েছি।’