কার্বন নিঃসরণ

‘ছোট অপরাধে বড় ক্ষতির মুখে দেশ’

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

কার্বন নিঃসরণ ছোট অপরাধ করে বড় ক্ষতির মুখে দেশ মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ভূমিকম্প বড় আঘাত হয়তো একবার দেয়, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিদিনের সমস্যা। বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণে বড় অবদান না রাখলেও ভুক্তভোগী দেশ হিসেবে আমরা প্রথম সাতটি দেশের মধ্যে একটি। তিনি কপ-৩০ এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ব্রাজিলের বেলেমে জলবায়ু আলোচনায় নারীদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আসেনি।

গতকাল লেকশোর হোটেলে ‘ভয়েসেস ফর চেঞ্জ : পুটিং ক্লাইমেট অ্যাকশন, উইমেন এন্ট্রাপ্রেনারস অ্যান্ড এসএমই ইন বাংলাদেশিজ পাবলিক পলিসি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি মানে শুধু সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং তাদের দৃশ্যমানতা বাড়ানোই হবে মূল লক্ষ্য। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন যদিও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। তারপরও জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও সুযোগের পরিধি এখনো যথেষ্ট নয়। কাজেই সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীদের সুযোগ নিশ্চিত করার অধিকার তাদেরই নিতে হবে।

তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিকভাবে সরকারি পর্যায়ে ঝুঁকি মোকাবেলার তহবিল থেকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নারী উদ্যোক্তাসহ সব উদ্যোক্তার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা জলবায়ুকে মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের এই তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, দেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে বড় উৎস, যার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই নারীদের জন্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। একজন নারী উদ্যোক্তা নিজের সাথে আরো কয়েকজন নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেন। নারীর আর্থিক শৃঙ্খলার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারীরা ঋণ নিলে তা পরিশোধ করেন- এটা প্রমাণিত সত্য। তাই নারীদের ঋণ সহায়তা বাড়ানো উচিত।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশেও পরিবেশবান্ধব নয় এমন কৃষি ও পশুপালন পদ্ধতিতে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গবাদিপশুর খাদ্যাভ্যাস উন্নয়নের মাধ্যমে মিথেন কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদিও শিল্পায়িত দেশগুলোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইভস্টক প্রোডাকশনের কারণে অধিক হারে কার্বন নিঃসরণ করছে।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে মৎস্য খাত। এর প্রভাবে নদী ও সাগরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের বহু এলাকায় অক্সিজেন ঘাটতিজনিত অঞ্চল তৈরি হচ্ছে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।