সৈয়দপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল গায়েব
Printed Edition
জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বরাদ্দকৃত চাল গোপনে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকার জুনের বিরুদ্ধে। চাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ কার্ডধারীরা প্রতিবাদ করলে তাদের প্রত্যেককে চালের বদলে ৬০০ টাকা করে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে- এই টাকা আদায়ের দায় চাপানো হয়েছে ইউনিয়নের একজন অসহায় গ্রাম পুলিশের ওপর।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে। চাল না পেয়ে প্রায় ১৫-২০ জন কার্ডধারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হলে চেয়ারম্যান চাল নেই দাবি করে তাদেরকে ৬০০ টাকা করে দিয়ে বিদায় করে দেন। অথচ কার্ডধারীদের দাবি, ৩০ কেজি চালের সমপরিমাণ মূল্য নয় এই অর্থ।
সোনাখুলী গ্রামের আরমান হোসেন বলেন, আমার মায়ের কার্ড (নং ৩৬৯৮) অনুযায়ী চাল পাওয়ার কথা ছিল। বিতরণের দিন চাল আনাতে গেলে চেয়ারম্যান জানান ‘চাল শেষ’। আমি প্রতিবাদ করায় বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) আসতে বলেন। ওই দিন গেলে আমাকে ৬০০ টাকা নিতে বলছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে নিয়েছে, কারণ তিন দিন ধরে যাতায়াতেই বেশ কিছু টাকা খরচ হয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নের এক গ্রাম পুলিশ জানান, চেয়ারম্যান চাল বিক্রি করে দিয়েছেন কিন্তু দোষ চাপিয়েছেন তাদের ওপর। প্রায় ২০ জন কার্ডধারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬০০ টাকা করে দিতে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইউনিয়নের চার হাজার ৫০৪ জন কার্ডধারীর মধ্যে ২০০-৩০০ কার্ডের বরাদ্দকৃত চাল চেয়ারম্যান কৌশলে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন। অতীতেও ভিজিএফ ও ভিজিডি চাল বিক্রির অভিযোগে ধরা পড়েছিলেন এই চেয়ারম্যান। সেসময় তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রেহাই পান।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকার জুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি কার্ডে দুইবার চাল নেয়ার কারণে সমস্যা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ বিষয়টি বুঝতে না পারায় কয়েকজনের চাল শর্ট পড়ে। তাই, তাদেরকে ৬০০ টাকা দিয়ে দেয়া হয়েছে। গোপনে চাল বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মতিউর রহমান বলেন, চাল না পাওয়ার ঘটনা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পর সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর ই আলম সিদ্দিকী তাৎক্ষণিকভাবে চেয়ারম্যান ও সচিবকে ফোনে নির্দেশ দেন- চাল না পাওয়া কার্ডধারীদের অবশ্যই চাল দিতে হবে। তিনি বলেন, চাল কম হওয়ার কারণ তদন্ত করা হবে। কারচুপি প্রমাণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তার ডিও স্থগিত রাখা হয়েছিল বলেও নিশ্চিত করেন ইউএনও।