বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ নিয়ে ১৪ নভেম্বরের আগে সিদ্ধান্ত

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদনে সাড়া দিয়েছে জাতিসঙ্ঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। দেশ দু’টির প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদকে সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। ইকোসক সাধারণ পরিষদকে আগামী ১৪ নভেম্বরের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইকোসকের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) গতকাল বুধবার এক তথ্য বার্তায় জানানো হয়েছে।

ইআরডি জানায়, বৈঠকে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকালের পটভূমি, প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে একটি মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার জন্য এই অতিরিক্ত সময় অপরিহার্য।

এর আগে জাতিসঙ্ঘের উন্নয়ন নীতিসংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) উভয় দেশের আবেদন গভীরভাবে পর্যালোচনা করে। সিডিপি মতামত দেয় যে, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা যুক্তিযুক্ত। সিডিপির সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক সাধারণ পরিষদকে আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী ওই দিনটিতেই (১৪ নভেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ইকোসকের এই সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এলডিসি থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সাধারণ পরিষদ এই সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও সংস্কার বাস্তবায়নে জোর দেবে। একই সঙ্গে এলডিসি-উত্তর সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের প্রস্তুতিকে আরো সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।