মাদরাসার সার্টিফিকেট দেখে চাকরিতে নেয়া হয়নি : মাদরাসা বোর্ড চেয়ারম্যান
Printed Edition
ইবি প্রতিনিধি
আমাদের সন্তানেরা যখন কোনো চাকরির ক্ষেত্রে গিয়েছে, তখন মাদরাসার সার্টিফিকেট দেখে তাদেরকে টার্মিনেট করা হয়েছে। এসব কথা বলেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো: নুরুল হক
গতকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইইআর) আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল অ্যাকাডেমিক ভবনের গগণ-হরকরা গ্যালারিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, বাবা-মা আলেম তৈরির উদ্দেশ্যে সন্তানদেরকে মাদরাসায় ভর্তি করান। পড়তে থাকে, আস্তে আস্তে বড় হয়।
নাইন-টেনে যখন ওঠে, তখন দেখে যে সিনিয়ররা রাস্তায় ঘুরতেছে। ভালো রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও ভালো চাকরি পাচ্ছে না। বিগত সময়ে পুলিশসহ কোনো ডিফেন্সে চাকরি হয়নি মাদরাসার ছেলেদের।
তিনি আরো বলেন, এই যে পারসেপশন তৈরি হয়েছে, তাদের আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করা হয়েছে। তখন এই দাখিল পাস করার পরে আর একটা দৌড় দেয় কলেজের দিকে, উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে দুই লাখ ৯৪ হাজার প্লাস, আর আলিম পরীক্ষা দিয়েছে শুধুমাত্র ৮৬ হাজার প্লাস। দুই লাখ ৮ হাজার ছাত্র কোথায় গেল? সবাই তো আর ঝরে পড়ে নাই, কলেজে চলে গেছে। এই যে ৮৬ হাজার পরীক্ষা দিলো আলিম, এ দেরকে আর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না মাদরাসায়। চলে যায় বিভিন্ন জায়গায়।
অনুষ্ঠানে আইআইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম।
প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো: নুরুল হক।
বিশেষ আলোচক ছিলেন বিএমটিটিআইর অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদুল হক এবং ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলী। এ ছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ছ ম তরীকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এখন এই আলিয়া মাদরাসা দু’টি ধারায় বিভক্ত। একটা বোর্ডের আওতায় যা মাদরাসা শিক্ষার অংশ, আরেকটি ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়।
মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য এই দু’টি অংশকে এগিয়ে নিতে হবে। মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য আমাদের সবাইকে প্রায়োগিক পরিকল্পনা করতে হবে।