ব্রিটেনকে চীনের সহায়তায় আরো ধনী করতে চান স্টারমার
৩ দিনের সফরে বেইজিংয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
Printed Edition
টেলিগ্রাফ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার চীন সফরের পক্ষে বলেছেন এই সফরের ফলে ব্রিটিশ নাগরিকেরা আরো সচ্ছল হবে। তিন দিনের সফরে গতকাল বেইজিং পৌঁছেছেন কিয়ার স্টারমার। আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম চীন সফর। কিয়ার স্টারমারের যুক্তি, তার এই সফর মানুষের পকেটে আরো টাকা আনবে এবং দেশকে আরো নিরাপদ রাখবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের কনজারভেটিভ সরকারগুলো চীনের বিষয়ে কখনো গরম, কখনো শীতল নীতি নিয়েছে। এই অবস্থাকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘সোনালি যুগ থেকে বরফ যুগের’ দিকে যাত্রা হিসেবে। তার মতে, এখনই কূটনৈতিক সম্পর্ক উষ্ণ করার সময়। তবে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক, টেলিগ্রাফে লেখা এক কলামে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘চীনের কাছে নতজানু’ হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
এই সফরে কিয়ার স্টারমার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি সাংহাই এবং পরে জাপান সফর করবেন। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন থেরেসা মে। ডাউনিং স্ট্রিটের উপদেষ্টারা বলেছেন, চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক প্রভাব উপেক্ষা করার সুযোগ ব্রিটেনের নেই। তারা সতর্ক করে বলেন, ‘চীনের সাথে সম্পৃক্ততা প্রত্যাখ্যান করা দায়িত্বে মারাত্মক অবহেলা হবে।’
চীন যাওয়ার আগে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে চীনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অসংলগ্ন -কখনো গরম, কখনো শীতল, সোনালি যুগ থেকে বরফ যুগের দিকে যাত্রা ছিল। কিন্তু পছন্দ হোক বা না হোক, চীন ব্রিটেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীনের সাথে একটি কৌশলগত ও ধারাবাহিক সম্পর্ক রাখা আমাদের জাতীয় স্বার্থেই পড়ে। এর মানে এই নয় যে তারা যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, সেদিকে চোখ বন্ধ করে থাকব, বরং মতপার্থক্য থাকলেও সম্পৃক্ত থাকব।’
স্টারমার আরো বলেন, ‘আমাদের মিত্ররাও এটাই করে, আর আমিও সেটাই করব- জনগণের জন্য কাজ করব, তাদের পকেটে আরো টাকা ঢোকাব এবং বাস্তববাদী ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের নিরাপদ রাখব।’ আগের প্রধানমন্ত্রীদের মতোই, কিয়ার স্টারমার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে সম্পর্ক গভীর করার সুফল এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছেন।
এই সফরে ৬০টির বেশি ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বার্কলেজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানি এবং পিডব্লিউসি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সফরের প্রস্তুতি চলেছে। এমন এক সময়ে এই সফর হচ্ছে, যখন কিয়ার স্টারমার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন, যাকে তিনি নিজেই সরকারের ‘এক নম্বর’ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
চ্যান্সেলর বা অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এই সফরে নেই। তিনি গত সপ্তাহে দাভোসে তার চীনা সমকক্ষদের সাথে বৈঠক করেছেন। তবে বিজনেস সেক্রেটারি পিটার কাইল এবং ট্রেজারির ইকোনমিক সেক্রেটারি লুসি রিগবি এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে রয়েছেন। তবে এই সফর ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, কিয়ার স্টারমার জাতীয় নিরাপত্তা ও পশ্চিমা জোটের প্রতি হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না।
এ দিকে, দ্য টেলিগ্রাফে লেখা নিবন্ধে কেমি ব্যাডেনক কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে ‘চীনের কাছে নতজানু’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি লেখেন, ‘চীন একটি বৈশ্বিক পরাশক্তি, যার প্রভাব ব্রিটেনের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত। যুক্তরাজ্যের সব সময়ই চীনের সাথে সংলাপ রাখা দরকার। কিন্তু আমরা এতটাও সরল হতে পারি না। চীন ব্রিটেনের জন্য একটি হুমকিও। এটি এমন একটি দেশ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, আমাদের এমপিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা ব্যাহত করে, উইঘুর মুসলমানদের নিপীড়ন করে এবং তাইওয়ানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের চীনের সাথে সম্পর্ক দরকার, কিন্তু চীনের কাছে বন্ধক হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই।’ ব্যাডেনক লেখেন, ‘লেবার সরকার চীনকে ভয় পায়।