সাক্ষাৎকার : আমেনা মহসিন
সার্ককে সক্রিয় করা ভীষণ কঠিন
আমেনা মহসিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং চেয়ারপারসন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সংযুক্ত অধ্যাপক।
Printed Edition
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেছেন, ভারত যতদিন সার্ককে ইতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখবে ততদিন এই দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ককে সক্রিয় করা খুব কঠিন। এর আগে সার্ককে সক্রিয় করে তোলার জন্য প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। যতদিন না ভারত ও পাকিস্তান তাদের সিকিউরিটি কনসার্নগুলো অ্যাডড্রেস না করে ততদিন পর্যন্ত সার্ককে অ্যাক্টিভেট করাটা ভীষণ ডিফিকাল্ট।
আমেনা মহসিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং চেয়ারপারসন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সংযুক্ত অধ্যাপক। তিনি জাতিগত সংখ্যালঘু, বেসামরিক সামরিক সম্পর্ক, গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে কাজ করেন। মহসিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জন্য বীরাঙ্গনার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন। তিনি ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। তিনি অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রায়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে গ্রামীণ ব্যাংককে একা ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির সমালোচনা করেন।
নয়া দিগন্ত : দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ককে সক্রিয় করার জন্যে তো অতীতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না কেন?
আমেনা মহসিন : ভারতকে বাদ দিয়ে তো আপনি সার্ক করতে পারছেন না। সার্ককে সক্রিয় করে তোলার একটাই জায়গা হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান যদি তাদের ইস্যুজগুলো রিসলভ করে তাহলে। আদারওয়াইজ এটা সম্ভব না।
নয়া দিগন্ত : ইদানীং ভারতের সংসদীয় কমিটির সভায় সার্ককে পুনরুজ্জীবন নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে এমন আভাস দিচ্ছে দেশটির মিডিয়াগুলো।
আমেনা মহসিন : আমি জানি না। আমি এমন কোনো নিউজ পাইনি।
নয়া দিগন্ত : শেষ পর্যন্ত সার্ককে যদি সক্রিয় করে তোলা না যায় তাহলে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনে এর সমান্তরাল অন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া যায় কি?
আমেনা মহসিন : সেটা অনেকে বলছে কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে থেকেই তো ইনেশিয়েটিভটা থাকবে। তো ইন্ডিয়াকে বাদ দিয়ে কিছু একটা করা ডিফিকাল্ট। এ ধরনের উদ্যোগে তো অন্য রাষ্ট্রগুলোরও ব্যাপার আছে। শুধু যে ইন্ডিয়া তাতো না।
নয়া দিগন্ত : তাহলে আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে তো একটা উদ্যোগের অনুপস্থিতি থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন হয়ে গেল, নতুন করে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কি কোনো উদ্যোগ নিতে পারে?
আমেনা মহসিন : জুলাই আন্দোলনের সাথে সার্কের তো কোনো সম্পর্ক নাই। সার্কের বিকল্প নিয়ে আমি ক্লিয়ার নই। বাংলাদেশ থেকে বা সার্কের বিকল্পের জন্যে অন্যান্য রাষ্ট্র তৈরি আছে কি না সেটাও আমাদের দেখতে হবে তাই না। এবং বিকল্প কেনইবা উদ্যোগ বা সেটাও কতদূর আগাতে পারবে ভেবে দেখতে হবে। এই রিজিওনে ভারত পাকিস্তানের মধ্যেকার ইস্যুগুলো এমন না যে সমাধানযোগ্য নয়। অতীতে তো এসব ইস্যু নিয়ে কাজ হয়েছে। এখানে আমার মনে হয় দুটি দেশের ইস্যুগুলো নিয়ে ইন্টার্যাক্টগুলো, অনেকগুলো প্লাটফরম রয়েছে, যেখানে কাজ হতে পারে সেগুলোকে কার্যকর করে তোলা দরকার।
নয়া দিগন্ত : সম্প্রতি দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়ে গেল, এরপর কূটনৈতিক কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না, তাহলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ধরনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।
আমেনা মহসিন : সার্কের এগিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। এখানে অঞ্চল বলতে তো ইন্ডিয়া আসবে তাই না। এখানে মিডিয়ারও একটা বড় ভূমিকা আছে। তাই সবদিক ভেবে চিন্তা করে দেখতে হবে। ইমোশোন দিয়ে গাইডেড না হয়ে সবারই উচিত ভেবেচিন্তে কথাবার্তা বলা।