আমরা ২৪-এর পূর্বাবস্থায় ফিরতে চাই না
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি এটিএম আজহারুল ইসলামের
Printed Edition
ফরিদপুর প্রতিনিধি
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের মতো প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ সরকারের নেই। একই দিনে দু’টি ভোট হলে জনগণ ঠিকমতো ভোট দিতে নাও পারে এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ২৪-এর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। আমরা বর্তমান পরিস্থিতির একটি আইনিভিত্তি দিতে চাই।’
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সমমনা ৮ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য শরিক দল একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে আন্দোলন করছে। তিনি উল্লেখ করেন ‘জুলাই সনদে আমরা সবাই স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদকে আইনিভিত্তি দিতে আমরা একমত হলেও গণভোট একইদিনে হবে নাকি আলাদা দিনে- এ বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে।’
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়; বরং আদর্শিক পরিবর্তনের নির্বাচন। সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গঠন, আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবমুক্ত হয়ে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণকে নির্বাচনে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত নেতারা।
আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সারা দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে দেখে কেউ কেউ ‘অবাঞ্ছিত মন্তব্য’ করছেন এবং কিছু স্থানে হামলার ঘটনাও ঘটছে। তিনি বলেন, হামলা করে জামায়াতে ইসলামীকে স্তব্ধ করা যাবে না। যুবকদের প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে পাহারায় থাকতে হবে। কোনোভাবেই মানুষের ভোটাধিকার নষ্ট হতে দেয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ স্বীকার করে আজকের এ পর্যায়ে এসেছে। অতীতে যারা দলটিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার কথা বলেছে, তারা নিজেরাই ইতিহাসে হারিয়ে গেছে- মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াতের নেতারা জনগণকে ছেড়ে পালিয়ে যাননি, বরং অনেকেই ফাঁসির মঞ্চে হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংগঠনের কোনো ব্যক্তিগত চাওয়াপাওয়া নেই। আমরা বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে দেখতে চাই- বিশ্বাস, ঈমান ও আকিদার ভিত্তিতে একটি দেশ হিসেবে দেখতে চাই- বলেন তিনি। এ সময় তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আবদুত তাওয়াবকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন আপনারা যদি মুজাহিদ সাহেবকে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে তার প্রার্থী হিসেবে তাওয়াব সাহেবের জন্য কাজ করবেন কি না। একই অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-১ আসনে অধ্যাপক ডা: ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে মাওলানা সোহরাব হোসাইন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে মাওলানা সরোয়ার হোসাইনকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ বদরুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও অঞ্চল সহকারী মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং অঞ্চল টিম সদস্য শামসুল ইসলাম আল্ বরাটী। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবু নাসির, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামাল, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা মো: মিজানুর রহমান আমির, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আবু হারিস মোল্লা, শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার পুত্র হাসান জামিল, শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের পুত্র আলী আহমেদ মাবরুর, ইসলামী ছাত্রশিবির জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মো: ওবায়দুল্লাহ, শাখা সভাপতি আকমল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।