গণতন্ত্রকামী সবার এক হওয়ার সময় এসেছে : মির্জা ফখরুল

Printed Edition
3rd-2
হোটেল সোনারগাঁওয়ে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবের প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের এখন এক হওয়ার সময় এসে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না আমরা এই মুহূর্তে কোন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি। আমার বয়স ৭৮ বছর। সারা জীবন সংগ্রাম করেছি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখার জন্য। আজ যে বাংলাদেশ দেখছি, এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি কোনো দিন দেখিনি।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তার প্রতিবাদে আয়োজিত এক যৌথ প্রতিবাদ সভায় সংহতি জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

সম্প্রতি দু’টি জাতীয় দৈনিক এবং একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ শুধু প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারের ওপর নয়, আঘাত এসেছে গণতন্ত্রের ওপর। স্বাধীনভাবে চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার আবার আক্রান্ত হয়েছে। এটি জুলাইযুদ্ধের চেতনাকেও আঘাত করেছে, যে যুদ্ধ ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘এটা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিষয় নয়। যারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শুধু সচেতন হলেই চলবে না, এখন রুখে দাঁড়ানোর সময়।’ বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে। একাত্মতা বা মানববন্ধনের মধ্যেই যেন প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ না থাকে, দেশকে ভালোবাসেন এমন সবাইকে সর্বস্তরে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

প্রতিবাদ সভায় নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ, সম্পাদক পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সোনারগাঁও হোটেলের পাশের সড়কে মানববন্ধন করেন।

দেশগঠনে জিয়ার অবদান ছিল বহুমাত্রিক ও দূরদর্শী

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত অর্থেই রাষ্ট্রনির্মাতা। গতকাল দুপুরে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ননীতি ও ফারাক্কা চুক্তিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে আয়োজিত এক প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তার জীবনের পুরো সময় দেশ ও মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।’ তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা ‘গ্যালাক্সি অব ইন্টেলেকচুয়ালস’ হিসেবে পরিচিত ছিল, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, যোগ্য, জ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ মানুষদের হাত ধরেই রাষ্ট্র এগিয়ে যায়।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রে রূপান্তর, বহুমাত্রিক কূটনীতি এবং পূর্ব-পশ্চিম শক্তিগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের দূরদৃষ্টি ছিল অনন্য।

১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় সংসদে সব মত ও আদর্শের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, যা একটি সমঝোতাভিত্তিক ও কার্যকর সংসদের দৃষ্টান্ত। জিয়াউর রহমানের সততা ও শৃঙ্খলাকে কিংবদন্তির সাথে তুলনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। সাধারণ মানুষের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ নেতৃত্বকে আরো মানবিক করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা বাংলাদেশকে চায়নি, তারাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। আজও সেই শক্তি নতুন সম্ভাবনাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ শহীদ জিয়াকে ‘ন্যাশন বিল্ডার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার অকাল মৃত্যু ছিল বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল সেনাশাসক নন, তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপ্রধান।