ঈদে ট্রেনে নারীদের পৃথক কামরা রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ট্রেনে পৃথক কামরা বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো: আজমল হোসেন খোকন।
শুনানি শেষে আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা রাখার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই আইনে আরও বলা আছে, ৫০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেয়া ট্রেনের ক্ষেত্রে নারীদের ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকতে হবে। এমনকি আইনের ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বিনা অনুমতিতে কোনো পুরুষ ওই সংরক্ষিত কামরায় প্রবেশ করলে তার ওপর জরিমানা আরোপের বিধানও রয়েছে।
দীর্ঘ ১৩৬ বছর আগে প্রণীত এই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে আইনজীবী মমতাজ পারভীন জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য পৃথক কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না।
বর্তমানে ওই রুলটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তবে সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনগুলোতে সাধারণ যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় এবং নারী ও শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা বিবেচনা করে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন আদালতকে বলেন, আইনের বিধানটি স্থায়ীভাবে কার্যকর করার রুলটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, কিন্তু ঈদের সময় নারীদের বিশেষ ভোগান্তি লাঘবে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা প্রয়োজন।
আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আসন্ন ঈদুল আজহাতেই আলাদা বগি বরাদ্দের এই নির্দেশ প্রদান করেন। অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের এই নির্দেশনার ফলে রেলওয়ে আইনের একটি দীর্ঘ উপেক্ষিত ধারা প্রাণ ফিরে পেল, যা মূলত নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই আদেশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।