ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে থাকা ১০ এফবিআই এজেন্ট বরখাস্ত

Printed Edition

রয়টার্স

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদ পার করার পর বেআইনিভাবে গোপন কিছু নথি রেখেছিলেন- এ অভিযোগ তদন্তে অংশ নেয়া ফেডারেল তদন্ত ব্যুরো এফবিআইয়ের অন্তত ১০ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার এই ১০ জনকে বরখাস্ত করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে সিবিএস নিউজ।

এই বরখাস্তের কিছুক্ষণ আগে এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্পের ওই তদন্তের অংশ হিসেবে ফেডারেল এজেন্টরা তার ফোনের রেকর্ডও তলব করেছিল, সে সময় তিনি ছিলেন একজন সাধারণ নাগরিক। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে এখন হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে থাকা সুসি ওয়াইলসের ফোনের রেকর্ডও তলব করা হয়। বরখাস্ত এফবিআই কর্মীরা কোনো অন্যায় করেছেন কি না, প্যাটেল তার কোনো প্রমাণ দেননি।

২০২১ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর স্পেশাল কাউন্সিল জ্যাক স্মিথ তার বিরুদ্ধে দু’টি বড় ধরনের ফেডারেল তদন্ত পরিচালনার ভার পান। এর একটি ছিল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ। অন্যটি ছিল ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের কাছে থাকা অতি গোপনীয় নথিপত্র এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো উদ্ধারে বিচার বিভাগকে বাধা দেয়ার অভিযোগ। বুধবার যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তারা সবাই ওই গোপন নথিপত্র সংক্রান্ত মামলার তদন্তে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

এফবিআই-এর বর্তমান ও সাবেক কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘এফবিআই এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ এই বরখাস্তকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। স্মিথের তদন্তের ওপর ভর করে ২০২৩ সালে ট্রাম্প ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। যদিও ২০২৪ সালে ফ্লোরিডার একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাটি খারিজ করে দেন এবং স্মিথের নিয়োগ ‘বেআইনি’ ছিল বলে রায় দেন। এ বছর ট্রাম্পের বিচার বিভাগের অনুরোধে জর্জিয়ার একটি আদালত মামলার বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধেও অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই মার্কিন বিচার বিভাগ ও এফবিআই তার বিরুদ্ধে তদন্তে যুক্ত থাকা কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা শুরু করে। মার্কিন বিচার বিভাগ এখন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বরখাস্ত হওয়া সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি এবং নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসের বিরুদ্ধেও মামলা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।