সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • গ্রেফতার এড়াতে বাংলাদেশীরা খুঁজছেন নিরাপদ জায়গা

  • অবৈধদের চাকরি দিলে স্থায়ী বসবাসকারীদের জেল-জরিমানা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের এই ঝটিকা অভিযানে প্রায় ১৮ হাজার বিদেশী অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়েছেন। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিক কতজন রয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূইয়ার বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হয়। তবে রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।

এমনকি সৌদি আরবের রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দার কনসাল জেনারেল অফিসের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যেসব বাংলাদেশী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে অবৈধ হয়ে পড়েছেন তাদের অনেকেই পুুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে নিরাপদ জায়গা খুঁজছেন।

গালফ নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মাত্র সাত দিনের অভিযানে ১৮ হাজার আট শ’ এর বেশি অবৈধ বিদেশী নাগরিক পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। এম রধ্যে দেশটির বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে মোট ১৭ হাজার আট শ’ ৮০ জন নথিবিহীন অভিবাসীকে সৌদি পুলিশ গ্রেফতার করে।

গত শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে অভিযান চালায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী। সেই অভিযানেই অবৈধ বিদেশী অভিবাসী আটক হয় ১৭ হাজার আট শ’ এর উপরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে সৌদি দৈনিক ওকাজ জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১১ হাজার ১৯০ জনকে সৌদিতে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, তিন হাজার ৮০১ জনকে সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে অনুপ্রবেশ করার জন্য এবং দুই হাজার ৮৮৯ জনকে শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের থাকার সুযোগ দেয়ার অভিযোগে ১৫ জন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই একই সময়সীমায় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়েছেন এক হাজার ৫০৯ জন। এদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনের, ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়া এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, কোনো নাগরিক কিংবা সৌদিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি অবৈধ বা নথিবিহীন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অবৈধ প্রবেশ, যাতায়াতে সহায়তা ও চাকরি প্রদান কিংবা চাকরি পেতে সহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাহলে সৌদির আইন অনুযায়ী ওই নাগরিক কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি ১০ লাখ রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার সৌদি আরবে ২৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ফ্রি ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে অনেকেই বিপদের মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবৈধভাবে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার বৈধভাবে থাকতে পারলেও পাচ্ছেন না কাজ। অনেকে কাজ পেলেও বেতন পাচ্ছেন না। এমন অসংখ্য অভিযোগ সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনসাল জেনারেল অফিসে জমা পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শ্রমিকরা দেশটিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার কারণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূইয়ার নির্দেশে কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়ার আগে দূতাবাসের সত্যায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানির ঘটনা কমতে শুরু করেছে। যদিও তুলনামূলকভাবে দেশটিতে কর্মী যাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। তবে ভুক্তভোগী রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা বরাবরের মতো বলছেন, ভিসা ঠিক থাকলে সত্যায়ন কোনো বিষয় নয়। সত্যায়নের নামে দূতাবাসের কর্মকর্তারা অহেতুক নিয়োগকর্তাদের হয়রানি করে থাকেন। এতে শ্রমবাজার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা অধিকাংশ জনশক্তি ব্যবসায়ীদের।