মেসির চোখে গার্দিওলাই সেরা
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
‘আমি অনেক কোচের অধীনেই খেলেছি, তবে পেপ গার্দিওলা তাদের মধ্যে সেরা’। ইএসপিএনকে সম্প্রতি দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন বিশ্বকাপজয়ী সুপারস্টার লিওনেল মেসি। মেসি বলেন, পেপ প্রত্যেক ম্যাচের আগে যেভাবে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করেন, তা অসাধারণ। আমি সৌভাগ্যবান যে তাকে বার্সেলোনায় পেয়েছিলাম। ‘আমার মতে গার্দিওলা অনন্য।’ বার্সায় থাকাকালে (২০০৮-২০১২) মেসি ছিলেন তার প্রধান অস্ত্র। এ সময় বার্সা ১৪টি মেজর ট্রফি জয় করে।
মেসি জানান, গার্দিওলার সাফল্য দেখেই মুগ্ধ নন বরং তিনি যে ছাপ ফেলেছেন তা অনন্য। বায়ার্ন ও ম্যানসিটিতে গিয়েও সফলতা পেয়েছেন পেপ। কারণ তিনি সেখানে চিরাচরিত খেলায় পরিবর্তন এনেছিলেন। বার্সা ছাড়ার পর, গার্দিওলা বায়ার্ন মিউনিখকে দু’টি ঘরোয়া ডাবলসহ তিনটি মৌসুমের প্রতিটিতে বুন্দেসলিগার মুকুট এনে দেন।
২০১৬ সালে সিটিতে আসার পর থেকে গার্দিওলা ১৮টি ট্রফি জিতেছেন। যার মধ্যে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগের মুকুট ও প্রথমবারের মতো সিটিকে এনে দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি। ৫৪ বছর বয়সী গার্দিওলা সম্প্রতি ম্যানেজার হিসেবে তার হাজারতম খেলা উদযাপন করেছেন।
এ দিকে আগামী বছর আর্জেন্টিনা আরো ভালো খেলবে বলে আশা করছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলবে আর্জেন্টিনা। দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির সাথে এ নিয়ে একাধিক বার কথা হয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। ‘স্কালেনি যেকোনো মূল্যে দলে চেয়েছেন আমাকে। তার সাথে আমার ও অন্য খেলোয়াড়দের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। সব থেকে বড় বিষয় হলো আমরা সবাই তাকে মন খুলে সব কিছু বলতে পারি।’
ক্যরিয়ারের কোন বছরটা সব থেকে ভালো এমন প্রশ্নে মেসি জানান, নির্দিষ্ট কোনো সময় বা অর্জনে বিশ্বাসী নই, কোনো পরিসংখ্যানেও বিশ্বাসী নই। তাই কোনো বছরকে বেছে নেয়া সম্ভব নয়। আমি শুধু খেলায় থাকতে চাই। ২০১২ সালে ৯১ গোল করেছি। কোপ আমেরিকা জিতেছি। বার্সার হয়ে চ্যম্পিয়ন লিগ জয় করাটাও স্মরণীয় হয়ে আছে। তবে বিশ্বকাপ জয়ের পর কাঁধের বোঝা অনেক হালকা হয়েছে।
৩৮ বছর বয়সী মেসি এ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে পেনাল্টিতে পরাজিত করে অধরা স্বপ্ন বিশ্বকাপ ট্রফির দেখা পান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। বিশ্বজয়ের সেই পথ মসৃণ ছিল না। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরে সবাইকে অবাক করে আর্জেন্টিনা।
মেসি বলেন, ‘বিশ্বকাপ খুবই কঠিন। যেকোনো দলই আপনাকে কষ্ট দিতে পারে, ছিটকে দিতে পারে। বল পোস্টে আঘাত করে ফিরতে পারে এবং ভেতরে বা বাইরে যেতে পারে, পেনাল্টিতেও হারতে পারেন। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, যদিও নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স উভয় দলই ভালো ছিল, আমাদের পেনাল্টিতে যেতে হয়েছিল ও সেখানে আমাদের এমিলিয়ানো জিতিয়েছিল।