সাগরে জেলেদের দু’পক্ষে সংঘর্ষে আহত ৪ নিখেঁাজ ২ জন

৫ লাখ টাকার মাছ লুট

Printed Edition

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় জেলেদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার জেলে আহত এবং দুই জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার দিবাগত গভীর রাতে পাথরঘাটা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। জেলে ও ট্রলার মালিকের বাড়ি পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায়।

নিখোঁজ জেলেরা হলো চরদুয়ানী ইউনিয়নের আজিজ বয়াতির ছেলে মো: হিরু বয়াতি ও বেলায়েত গাজীর ছেলে জসিম গাজী। ঘটনার সময় প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় অপর ট্রলারের জেলেরা।

জানা যায়, উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করছিলো। ঠিক এমন সময় অপর একটি ট্রলার জাল ফেলে। এ নিয়ে এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেদের ওপর অপর ট্রলারের জেলেদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে অপর ট্রলারের (নাম বিহীন) আরো দু’টি ট্রলারসহ জেলেদের ডেকে এনে মনির আকনের জেলেদের ওপর ট্রলারের শিকল নিক্ষেপ করে। এতে চার জেলে আহত হয় এবং দুই জেলে ট্রলার থেকে পড়ে নিখেঁাঁজ হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, মাছ ধরার সময় মনির আকনের মালিকানা ট্রলারের জালে প্যাঁচানো নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিনটি ট্রলারের জেলেদের ছেলেরা মনির আকনের ট্রলারের হামলা করে। এতে চারজন আহত হয় এবং দুইজন নিখেঁাঁজ হয়। আহতদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিখেঁাঁজ দুই জেলের সন্ধান মেলেনি।

ট্রলারের মালিক ও মাঝি মনির আকন বলেন, আমরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এফবি মুন্না নামের একটি ট্রলিং আমাদের জালের ওপর উঠে যায়। বাধা দিলে হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তিনি আরো বলেন, আমরা ট্রলার সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আরো তিনটি ট্রলিং আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা ট্রলারে উঠে শিকল নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। মনিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে আনুমানিক চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা ট্রলারের জালও কেটে নিয়ে যায়।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে তবে ঝুঁকিমুক্ত।