বিনিয়োগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারে এফবিসিসিআইর একগুচ্ছ প্রস্তাব

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। একই সাথে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান। সভায় বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে করনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে নানা প্রস্তাবনা দেন।

এ সময় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের ধীরগতির প্রোপটে আগামী বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে নীতিগত স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

সভায় ব্যবসায়ী নেতারা আগামী বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার যৌক্তিকীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রফতানি বহুমুখীকরণের জন্য অগ্রাধিকার খাতগুলোকে আরো শক্তিশালী করা।

এ ছাড়া শিল্পখাতের কাঁচামাল আমদানির সুবিধা বাড়াতে সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ স্থাপন এবং ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়নের েেত্র অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার ওপরও জোর দেন ব্যবসায়ীরা।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দেশের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হলে শুধু করের হার বাড়ালেই হবে না, বরং করের আওতা সম্প্রসারণ করতে হবে। এ েেত্র কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা আরো বলেন, করনীতি ও কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন এবং বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে ইন্টিগ্রেশন নিশ্চিত করা গেলে কর আদায় প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং রাজস্ব আহরণও বাড়বে। এ বিষয়ে কার্যকর পদপে নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান বলেন, সরকার আগামী দিনে দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ল্য নির্ধারণ করেছে। তবে রাজস্ব বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আরো জানান, প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে পাওয়া যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সুপারিশগুলো সঙ্কলন করে এনবিআরের ৪৬তম পরামর্শক কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো: আলমগীর। তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট এমন একটি সময়ে প্রণয়ন হতে যাচ্ছে যখন বিশ্ব অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের ধীরগতি বাজেট প্রণয়নকে আরো কঠিন করে তুলছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এজন্য ব্যবসায়ী সমাজকে গঠনমূলক ও যৌক্তিক প্রস্তাবনার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সাবেক সদস্য এবং এফবিসিসিআইর বাজেট বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য ফরিদ উদ্দিন ও আমিনুর রহমানসহ সংগঠনটির সাবেক পরিচালক, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং এফবিসিসিআইর কর্মকর্তারা।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়বে এবং একই সাথে সরকারের রাজস্ব আয়ও টেকসইভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাই আসন্ন জাতীয় বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার মতো নীতিগত সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।