মিল্কভিটার প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

Printed Edition

‘দুর্নীতিতে ডুবছে মিল্কভিটা’ শিরোনামে গত ৩ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত সংবাদের কিছু অংশের প্রতিবাদ জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসার্স কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা)। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন, অর্থ ও নিরীক্ষা) ড. মোহাম্মদ মনজুরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, চিনি ক্রয়ের টেন্ডারে অতিরিক্ত ব্যয় ও উৎকোচ দাবির যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা অসত্য ও মনগড়া। ই-জিপির যথাযথ গাইডলাইন অনুসরণ করেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে সভাপতিকে ঘিরে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করা হয়। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী কমিটি ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত সময়ে তফসিল ঘোষণা করেছিল। কিন্তু মহামান্য বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিপিট পিটিশন দায়ের হওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান কমিটি সমবায় আইনের বাইরে গিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি বলেও দাবি করা হয়।

প্রতিবাদলিপিতে আরো বলা হয়, সমবায়ী খামারিদের শেয়ার নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করে শেয়ার সার্টিফিকেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেগুলো বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। সমবায়ী খামারিদের কাছ থেকে কাঁচা তরল দুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাজারদর ও প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফ্যাটভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি ১৯ লাখ লিটার কাঁচা তরল দুধ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে এ পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বক্তব্যও নেয়া হয়নি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, ই-জিপির গাইডলাইন অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- প্রায় ৮৩ লাখ টাকা কম দরদাতাকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে টেন্ডার দেয়ার বিধান আছে কি না? প্রতিবেদনে মূলত এ বিষয়টিই তুলে ধরা হয়েছে।

সমবায়ী খামারিদের শেয়ার সার্টিফিকেট প্রস্তুত থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে বিতরণ করা যাচ্ছে না- এমন দাবি করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রায় দুই দশক ধরে এ জটিলতার সমাধান কেন হয়নি?

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুই দশকে দুধ সংগ্রহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি ১৯ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় সাত কোটি ৩৬ লাখ লিটার। সেক্ষেত্রে কোনো তথ্যটি সঠিক- সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মিল্কভিটার সভাপতির বক্তব্য নেয়ার জন্য টানা দুই দিন ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে একজন পরিচালকের বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।