এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বৃদ্ধি
ঢাকায় কূটনৈতিকদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অর্থমন্ত্রীর চিঠি
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে উত্তরণসংক্রান্ত প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী কূটনৈতিকদের উদ্যোগ নেয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ও নেপালের প্রতি কূটনৈতিক মনোযোগ নিবন্ধ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার চাচ্ছে এই উত্তরণ প্রক্রিয়া যেন আরো তিন বছর বাড়ানো হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অর্থমন্ত্রী লিখেছেন, পাঁচ বছর মেয়াদি প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশ আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উত্তরণের সব সূচক পূরণ করলেও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে প্রস্তুতিকালে কাক্সিক্ষত কাঠামোগত সংস্কারে পূর্ণ মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এসব প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত খাদ্য ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘœ, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান এবং আর্থিক খাতে বিদ্যমান অস্থিরতা, ইত্যাদি।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে তৈরী পোশাক রফতানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি+ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাজারে প্রবেশাধিকার বিষয়ে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান সরকার উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবেলার লক্ষ্যে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরো তিন বছর বৃদ্ধি করে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সম্প্রসারণের জন্য জাতিসঙ্ঘের উন্নয়ন নীতি কমিটির (সিডিপি) চেয়ার বরাবর আবেদন করেছে। প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদিত হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চিঠিতে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিউ ইয়র্কের জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানা গেছে, বাংলাদেশের আবেদনটি প্রথমে সিডিপির বিশেষজ্ঞ কমিটিতে আলোচিত হবে। পরবর্তীতে সিডিপির সুপারিশ একোসকের (ঊঈঙঝঙঈ)-এ উপস্থাপিত হবে এবং একোসকের-এর সম্মতিক্রমে বিষয়টি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে বিষয়টি ভোটাভুটির পর্যায়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
একোসকের-এর চেয়ার হিসেবে নেপালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নেপালের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে। সাধারণত জাতিসঙ্ঘে সংশ্লিষ্ট দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের কান্ট্রি অফিসের মতামতের ভিত্তিতে অবস্থান গ্রহণ করে থাকেন। এ অবস্থায় ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের মিশনের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগাম ও নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ও নেপালের প্রতি আমাদের কূটনৈতিক মনোযোগ নিবন্ধ করা প্রয়োজন। একই সাথে অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রের কাছ থেকেও সমর্থন বা ভোট প্রাপ্তির লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ জোরদার করা যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী চিঠিতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণের বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ অবস্থায় জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিউ ইয়র্কের জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং ঢাকাস্থ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মিশনের সাথে সমন্বিতভাবে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের সমর্থন আদায়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ নির্দেশনা দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সহযোগিতা চেয়েছেন।