তিন উপজেলায় কোম্পানির সিন্ডিকেটে অসহায় ৩০ হাজার তামাক চাষি

Printed Edition
bangla-5
তামাক নিয়ে হতাশায় বসে আছেন কৃষক : নয়া দিগন্ত

রফিক আহমদ চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া এবং পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় তামাক কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক তামাকের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উৎপাদিত তামাক বিক্রি করতে গিয়ে নানা অজুহাতে দাম কমিয়ে দেয়ায় কৃষকেরা চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুম শুরুর আগে কোম্পানির প্রতিনিধিরা বেশি লাভের আশ্বাস, অগ্রিম টাকা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। কিন্তু এখন উৎপাদিত তামাক কিনতে গিয়ে কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে কম দাম দিচ্ছে।

চকরিয়া, লামা ও আলীকদমে গত তিন দশক ধরে হাজারো কৃষক আবাদি ও পাহাড়ি জমিতে তামাক চাষ করে আসছেন। কেউ বর্গা জমিতে, কেউ নিজস্ব জমিতে এই চাষ করেন। চলতি মৌসুমে উৎপাদিত তামাক বিক্রির সময় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন গ্রেড তৈরি করে কম দামে তামাক কেনার অভিযোগ উঠেছে।

চাষিদের দাবি, মান নির্ধারণে অস্পষ্টতা, ওজন কম ধরা, অর্থ পরিশোধে বিলম্ব এবং নানা শর্ত আরোপের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে অনেকেই উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।

লামা উপজেলার এক কৃষক বলেন, কোম্পানির আশ্বাসে তামাক চাষ করেছিলাম। এখন বিক্রি করে ঋণও শোধ করতে পারছি না। ব্যাংক ঋণ ও অগ্রিম নেয়া টাকার চাপ সামলাতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

চকরিয়ার একাধিক কৃষক জানান, তামাক বিক্রি করতে না পেরে অনেকে কোম্পানির ক্রয়কেন্দ্রে উৎপাদিত তামাক রেখে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ তামাক বিক্রি করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

এ অবস্থার প্রতিবাদে কৃষকেরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন কয়েক দফা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে যেকোনো সময় বড় সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর নেতারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুযায়ী তামাক ক্রয় করা হচ্ছে।

প্রতি বছর এ তিন উপজেলায় কয়েক হাজার একর জমিতে তামাক চাষ হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে কৃষকরা এই তামাক চাষের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।