একই খালে দুই দফতরের বরাদ্দ : শেরপুরে লক্ষ্মীখোলা খনন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

Printed Edition
bangla-2
১ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্মী খোলা শাখা খাল খনন কাজ চলছে : নয়া দিগন্ত

আকরাম হোসাইন, শেরপুর (বগুড়া)

বগুড়ার শেরপুরে একটি খাল খনন প্রকল্পে দুই দফতরের পৃথক বরাদ্দ ও অনুমোদন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা শাখা খালের একই অংশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আলাদাভাবে বরাদ্দ দেয়ায় সমন্বয়হীনতা ও সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, পাউবো অনুমোদিত শূন্য থেকে এক কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জানান, তাদের অনুমোদন এক কিলোমিটার পর্যন্ত; ওই অংশের কাজ শেষ করা হবে। তবে খালের মোট দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার হওয়ায় আংশিক খননে কাক্সিক্ষত সুফল মিলবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর শূন্য থেকে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত পুনঃখননের জন্য ২৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৬ টাকা বরাদ্দ দেয় এলজিইডি। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি একই খালের শূন্য থেকে এক কিলোমিটার অংশ খননে ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৯২ টাকা বরাদ্দ দেয় পাউবো। একই স্থানে পৃথক বরাদ্দের ঘটনায় সচেতন মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ওমর ফারুক, আকবর ও আব্দুর রহমান বলেন, বর্ষায় খাল ভরাট থাকায় জমিতে পানি জমে থাকে, আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচ সঙ্কট দেখা দেয়। ‘খাল পুরোটা খনন না হলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে না। এক কিলোমিটার কাজ করলে শুধু টাকা খরচ হবে, লাভ হবে না বলে তারা দাবি করেন।

এলজিইডির শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমরা পুরো আড়াই কিলোমিটার খননের অনুমোদন আগেই পেয়েছি। পাউবো কিভাবে একই অংশে বরাদ্দ পেল, তা আমাদের জানা নেই। আমরা কাজ শুরুর প্রস্তুতিতে ছিলাম, এর মধ্যেই তারা কাজ শুরু করেছে।’ তিনি বিষয়টিকে জটিল পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, পাউবোর বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অংশের কাজ প্রায় শেষের দিকে। পরে দুই দফতর সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ সরকারি তহবিলে ফেরত দেয়া হবে।’ একই খালে দুই দফতরের বরাদ্দকে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, পুরো খাল খনন নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সম্ভাব্য অর্থ অপচয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সমন্বিত সিদ্ধান্ত না হলে কৃষকরা কাক্সিক্ষত সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।