ইসরাইলের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় স্থগিত রেখেছিল বাইডেন প্রশাসন

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন

Printed Edition

রয়টার্স

  • এটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সহযোগিতায় বিরল ঘটনা

  • হামাস ও বন্দীদের খোঁজে একটি লাইভ ভিডিও ফিড বন্ধ করা হয়েছিল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাইডেন প্রশাসনের সময় ইসরাইলের সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিময় করা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে এবং এটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সহযোগিতায় বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সরবরাহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইভ ভিডিও ফিড বন্ধ করে দেয়। ওই ভিডিও ফিডটি ছিল মার্কিন ড্রোন থেকে প্রাপ্ত, যা ইসরাইলি বাহিনী হামাস যোদ্ধা ও জিম্মিদের খুঁজে বের করতে ব্যবহার করছিল। সূত্র জানায়, এই স্থগিতাদেশ কয়েক দিনের জন্য কার্যকর ছিল।

এ ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে দেয়া কিছু গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইসরাইল কিভাবে তথ্য ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে ইসরাইলি অভিযানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মধ্যে তখন তীব্র আলোচনা চলছিল। কর্মকর্তারা মনে করছিলেন, ইসরাইল যথেষ্ট নিশ্চয়তা দিচ্ছে না যে তারা মার্কিন তথ্য ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে। ফলে কিছু তথ্য ভাগাভাগি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে বাইডেন প্রশাসন পুরোপুরি গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ করেনি। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেই কর্মকর্তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে ইসরাইলের সাথে তথ্য আদান-প্রদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হোক।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ ছিল। ধারণা করা হয়, ইসরাইলি বাহিনী মার্কিন তথ্য ব্যবহার করে এমন কিছু অভিযান চালাচ্ছিল যা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে তুলছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাই এ ধরনের সাময়িক স্থগিতাদেশ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এটি দীর্ঘমেয়াদি বিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত নয়, তবুও স্পষ্ট করে দেয় যে ওয়াশিংটন ইসরাইলের সামরিক কৌশল নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এ ছাড়া, এই ঘটনা বাইডেন প্রশাসনের নীতির প্রতিফলনও বটে। তারা এক দিকে ইসরাইলের নিরাপত্তাকে সমর্থন করেছে, অন্য দিকে গাজায় বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে নীতিগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য গোয়েন্দা তথ্য ভাগে সাময়িক বিরতি নেয়া হয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইসরাইলি অভিযানে গাজায় বেসামরিক মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তারা ইতিবাচক সঙ্কেত হিসেবে দেখছে। তবে ইসরাইলের সমর্থকরা মনে করছেন, এটি দেশটির নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে।

ঘটনাটি প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্ক যতই দৃঢ় হোক না কেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা দেখা দিলে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, দাবি রয়টার্সের। বাইডেন প্রশাসনের সময়কার এই সাময়িক বিরতি ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতার ধরন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।