খামেনিকে হত্যা করে ট্রাম্প বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করেছেন : ইরান
Printed Edition
সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে ‘খুবই বিপজ্জনক সীমা’ অতিক্রম করেছেন। সিএনএন-কে রোববার এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে খামেনির বহু শিয়া অনুসারী তাকে হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ‘ধর্মীয় দিক থেকে অবশ্যই তিনি ছিলেন একজন মহান ধর্মীয় নেতা। গোটা অঞ্চলজুড়ে এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত শিয়া অনুসারী তার রয়েছে। তারা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। নিঃসন্দেহে সেটি ঘটবে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুবই বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করেছেন। আমাদের জবাব দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই,’ বলেন খতিবজাদেহ।
শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নজিরবিহীন হামলা শুরু করেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর দাবি, অন্তত ১৪টি মার্কিন সেনাঘাঁটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে। পাল্টা জবাবের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে ইসরাইল এবং মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই চলছে ইরানের হামলা। সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়াও কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সৌদি আরব ও জর্দানে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে একযোগে এসব স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছিল। রোববারের পর সোমবারও ইরান হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় মানুষ মারা যাচ্ছে, সম্পদেরও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ বলেছেন, ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করে সেসব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে বলেছে যেগুলো ইরান নিজেদের জন্য হুমকি বলে মনে করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। বলেছি, ইরানকে অনবরত হুমকি দেয়া কিংবা ইরানে আক্রমণের জন্য ব্যবহার হওয়া মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করতে হবে। নাহলে আমাদের সেগুলোকে প্রতিরোধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’ ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত হানতে পারবে না। ফলে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের মধ্যে থাকা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
কূটনীতি এখনো একটি বিকল্প কি না জিজ্ঞেস করা হলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কয়েকবারই হতাশ করেছে। এই আগ্রাসন শুরু করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ইরানকে পাল্টা হামলা করতে দেখতে না চাইতেন তাহলে তিনি শুরু থেকেই এই যুদ্ধের সূচনা করতেন না। তিনি যুদ্ধ করাকেই বেছে নিয়েছেন।’