৪ মাস পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে রফতানি হলো ১৭৬ ট্রাক সুপারি
Printed Edition
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
দীর্ঘ চার মাস পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি করা হয়েছে ১৭৬ ট্রাক সুপারি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পাওয়ার পর গত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব ট্রাকগুলো ভারতে প্রবেশ করে। ভারত থেকে মান পরীক্ষার রিপোর্ট না আসায় গত চার মাস ধরে বেনাপোল বন্দরে আটকে ছিল রফতানিমুখী এসব সুপারি।
জুলাই বিপ্লবে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয় এবং বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ভারতীয় কাস্টমস সুপারির মান পরীক্ষার রিপোর্ট সরবরাহ বন্ধ করে দিলে বেনাপোল বন্দরে আটকা পড়ে রফতানিমুখী ১৭৬ ট্রাক সুপারি। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সমাধান আনতে পারেননি। বরং স্থলপথে পাট, পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টসসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পণ্যের রফতানিও বন্ধ হয়ে যায়।
তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা কাটতে শুরু করেছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গম ও চিনি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। এরপর গত রোববার সুপারির মান পরীক্ষার ছাড়পত্র দেয়ায় আটকে থাকা সুপারি রফতানি শুরু হয়। বেনাপোল বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্ঘনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবু তালহা জানান, ভারত ছাড়পত্র দেয়ায় বেনাপোল বন্দরে আটকে থাকা ১৭৬টি সুপারির ট্রাক রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সবগুলোই ভারতে প্রবেশ করে। নতুন করে যেসব সুপারির ট্রাক বন্দরে আসছে সেগুলোও মান পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েই ভারতে যাচ্ছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারকরা জানান, সুপারি রফতানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। ১৭৬টি ট্রাকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড গুনতে হয়েছে। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পণ্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত উঠে যাবে বলে আশা করছেন দুই দেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি এবং দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। রফতানি পণ্যের মধ্যে বড় একটি অংশ সুপারি। বাংলাদেশী সুপারির গুণগত মান ভালো হওয়ায় ভারতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।