বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

‘হলান্ডই আমাদের মেসি-এমবাপ্পে’

Printed Edition
first-4
সেনেগালের জালে দুইবার বল পাঠিয়ে সতীর্থদের নিয়ে এভাবেই উদযাপন নরওয়ের গোল মেশিন (মাঝে) হলান্ডের : ইন্টারনেট

দুই ম্যাচে চার গোল। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর সেনেগালের বিপক্ষেও দুই গোল ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকারের। ফলে বিশ্বকাপ অভিষেকটা দুর্দান্তভাবে শুরু হলো নরওয়ের এই ফরোয়ার্ডের। এতে তিনি এখন এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে। এই লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি এই আসরে ৫ গোল দিয়ে শীর্ষে। হলান্ডের মতোই ৪ গোল দিয়ে মেসির ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে। এ দিকে দীর্ঘদেহী এই স্ট্রাইকারকে মেসি ও এমবাপ্পের সাথে তুলনা করলেন নরওয়ের ফুটবলার মরটেন হর্সবে। এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের মতে, হলান্ডই আমাদের মেসি ও এমবাপ্পে।

দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নটআউটে খেলার টিকিট পেল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপের নকআউটে খেলেছিল স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশটি। এর আগে ১৯৩৪ ও ১৯৯৪ সালেও তারা বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। নরওয়ে ১৯৯৮ গ্রুপ পর্বে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। সেই নরওয়ে আগামী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের।

হলান্ডের সাথে মেসি ও এমবাপ্পের তুলনা প্রসঙ্গে ইতালিয়ান লিগে ক্লাব ক্রেমোনিসে খেলা এই ফুটবলার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফ্রান্সের এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি যেমন বিশ্ব ফুটবল এবং বিশ্বকাপের বড় তারকা তেমনি আমাদের হলান্ডও বড় তারকা। সে-ও তো বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে দু’টি করে চার গোল করেছেন। হলান্ডও মেসি এবং এমবাপ্পের মতো বিপক্ষ দলের জন্য আতঙ্ক। সোজা কথা প্রতিপক্ষের জন্য কিলার। ইরাকের বিপক্ষে যেমন তিনি জোড়া গোল করেছেন, তেমনি দুইবার বল পাঠিয়েছেন সেনেগালের জালে।

তবে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন সবার চেয়ে এগিয়ে রাখলেন লিওনেল মেসিকে। তার মতে রোনালদো, এমবাপ্পে বা লিওনেল মেসি- তাদের তুলনায় গেলে আমি অবশ্যই এগিয়ে রাখব মেসিকে। সে তো ধারাবাহিকভাবেই গোল করে যাচ্ছে।

চার গোল করা হলান্ডের ওপর নির্ভর করছে নরওয়েজিয়ানদের এবারের বিশ্বকাপে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়াটা। এখন পর্যন্ত দলটি দ্বিতীয় রাউন্ডের বেশি যেতে পারেনি। ১৯৯৮ সালে তারা ইতালির কাছে দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরে গিয়েছিল। এখন তাদের মূল লক্ষ্য গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়।

গোল মেশিন হলান্ড বক্সের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক। বিশ্বকাপে তার গোল্ডেন বুট জেতার কৃতিত্ব আছে। অবশ্য তা অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপে। ৯ গোল দিয়েছিলেন ২০১৯ সালের সেই আসরে। সেই বছরই নরওয়ে সিনিয়র জাতীয় দলে তার অভিষেক। এখন পর্যন্ত নরওয়ের হয়ে ৪৮ ম্যাচে ৫৫ গোল করেছেন। নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিকও তিনি। সবচেয়ে কম সময়ে অর্থাৎ ৪৬ ম্যাচে ৫০ গোল করেছেন। এ পর্যন্ত নরওয়ের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করেছেন।

জার্মান ক্লাব বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ৫৭ ম্যাচে ৬২ গোল এবং ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে ১৩২ ম্যাচে ১১২ গোল করেছেন হলান্ড। সুতরাং বিশ্বকাপে নরওয়ে যদি বেশি ম্যাচ খেলে এবং প্রতিবারই কোয়ালিফাই করে তাহলে কোনো রেকর্ডই তার নাগালের বাইরে থাকবে না। ২০২৪ সালে ইংলিশ লিগে আটটি হ্যাটট্রিক করেছেন। ইতোমধ্যেই অভিষেকের বিশ্বকাপে চার গোল দিয়ে মেসি ও রোনালদোকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন হলান্ড। ২০০৬ সালের অভিষেকের বিশ্বকাপে মেসি ও রোনালদো একটি করে গোল করেছিলেন।