মুস্তাকিমের কোয়াড্রপল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
Printed Edition
khela-1
রেকর্ড ৪০৪* রানের ইনিংস খেলা ক্যামব্রিয়ান স্কুলের মুস্তাকিম হাওলাদার : বিসিবি
  • মুস্তাকিমের ৪০৪* রানে ছিল ৫০ বাউন্ডারি ও ২২ ছক্কা।
  • ক্যামব্রিয়ানের স্কুলের ৭৭০ রান ওয়ানডে ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে রেকর্ড
  • ২৫৬ করেন সোয়াদ পারভেজ। মুস্তাকিম-সোয়াদ জুটিতে ৬৯৯ রান

সিঙ্গেল-ডাবল-ট্রিপল সেঞ্চুরি সচরাচর শোনা গেলেও কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি অধরা। টেস্টে ব্রায়ান লারা অপরাজিত ছিলেন ৪০০ রানে। তবে ওয়ানডেতে! সেই কল্পনাতীত ও বিস্ময়কর কাজটি করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের স্কুল ক্রিকেটে ক্যামব্রিয়ানের ছাত্র মুস্তাকিম হাওলাদার। ১৭০ বলে ৫০ চার ও ২২ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৪০৪ রানে। যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো সংস্করণে ৪০০ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড নেই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের।

আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ৩৩৪ রানের। মিরপুরে রেকর্ডটি গড়ে ছিলেন তামিম ইকবাল। ২০২০ সালে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে রেকর্ডটি গড়েন ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের হয়ে খেলা তামিম। ৪২৬ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ৪২ চার ও ৩ ছক্কায়। তামিমের আগে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ত্রিপল সেঞ্চুরি করেন রকিবুল হাসান। ২০০৭ সালে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বরিশাল বিভাগের হয়ে।

দুই মাস আগে শুরু হওয়া স্কুল ক্রিকেটের এই আসরে গতকাল সেন্ট গ্রেগোরিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপক্ষে মোস্তাকিম ও অধিনায়ক সোয়াদ পারভেজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭৭০ রান করে ক্যামব্রিয়ান স্কুল। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় খেলার মাঠে ওপেনিং নামা মুস্তাকিম শেষ পর্যন্ত ৪০৪ রানে এব সোয়াদ ১২৪ বলে ৩২ চার ও ১৩ ছক্কায় অপরাজিত ২৫৬ রান করেন । জবাবে ক্যামব্রিয়ানের দুই বোলার হৃদয় ও সোয়াদ ক্রিজে দাঁড়াতেই দেননি সেন্ট গ্রেগরির ব্যাটারদের। মাত্র ১১.২ ওভারে ৩২ রানে অলআউট হয়ে মাঠ ছাড়ে গ্রেগরিয়ানরা। হৃদয় ৬ টি ও সাদ ৪টি উইকেট নেন। ফলে ৭৩৮ রানের বিশায় জয় পায় ক্যামব্রিয়ান।

মোস্তাকিম জানান, ‘আল্লাহ লিখে রাখছে। আর নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল। যখন উইকেটে আসি, চেষ্টা করেছি ব্যাটের সঙ্গে বলের সংযোগটা ভালো করতে। যখন দেখলাম ভালো লাগছে, তখন মনে হয়েছে পারব আজকে।’ ক্রিকেটে মোস্তাকিমের আদর্শ সাকিব আল হাসান হলেও পাওয়ার হিটিংয়ের জন্যই অনুসরণ করেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটকে।

৬৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়া বন্ধু সোয়াদ পারভেজের সঙ্গে আগেও খেলেছে মোস্তাকিম। ম্যাচ শেষে বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা মোস্তাকিমের, ‘শেষ দিকে ওভার কম ছিল। ও আমাকে স্ট্রাইক দিয়ে সাহায্য করছিল। ও আর আমি ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে খেলি। অনেক সাহায্য করেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল দুজন মিলেই যেন শেষ করে আসতে পারি।’

এমন স্কুল ক্রিকেট থেকেই পরবর্তীতে কিংবদন্তি ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছিলেন ভারতের শচিন টেন্ডুলকার। ১৯৮৮ সালে লর্ড হ্যারিস শিল্ড স্কুল ক্রিকেটে সেন্ট জ্যাভিয়ার স্কুলের বিপক্ষে বিনোদ কাম্বলির সাথে ৬৬৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শচিন। তার সংগ্রহ ছিল ৩২৬। মুস্তাকিম কাল ৪০৪* করে ছাড়িয়ে গেছেন শচিনকেও।

২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪৯৮ করেছিল ইংল্যান্ড। এবার তা ছাড়িয়ে গেল ক্যামব্রিয়ান স্কুল। ওয়ানডে ক্রিকেটে তো বটেই, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেই ৭৭০ রানের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড এটিই।