পিরোজপুর-১ আসনে এক সময়ের মিত্র এখন প্রতিপক্ষ
Printed Edition
শফিকুল ইসলাম মাসুদ পিরোজপুর
পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী) আসনের রাজনীতি ছিল পুরোপুরি জোটনির্ভর। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমন্বিত ভোটব্যাংকই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করত। মরহুম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন এ আসনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ভোট-ফ্যাক্টর। তবে সময়ের সাথে সেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।
অতীতে বিএনপি এই আসনে একক শক্তিতে নয়, বরং জামায়াতের সাথে জোট করেই নির্বাচনী লড়াই চালিয়েছে। জামায়াতের সংগঠিত ভোটব্যাংক, ধর্মীয় আবেগ এবং সাঈদীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ভোটের মাঠে বড় ভূমিকা রেখেছে। শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর কারণে দীর্ঘ দিন এ আসনে জামায়াতের প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। বর্তমান বাস্তবতায় সেই জোট রাজনীতির অবসান ঘটেছে। এবারের নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে মরহুম সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী এবং জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের মধ্যে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদ সাঈদী তার বাবার গড়ে তোলা ভোটব্যাংকের বড় অংশ ধরে রাখতে পেরেছেন। দলীয় সমর্থকদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও তিনি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এক সময় যেখানে দলীয় প্রতীক ছিল মুখ্য, সেখানে এখন ভোটারদের কাছে ব্যক্তিগত ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের ধারণা, মরহুম সাঈদীর উত্তরাধিকার ও ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে মাসুদ সাঈদী এ আসনে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে বিএনপি এবার নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। দলীয় ভোট ধরে রাখাই তাদের প্রধান কৌশল।
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জামায়াত নতুন ভোটার তৈরিতে বিএনপির তুলনায় এগিয়ে আছে। বিএনপির বড় সমাবেশনির্ভর রাজনীতির বিপরীতে জামায়াতের ঘরোয়া কর্মীসভা ও সাংগঠনিক তৎপরতা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে পিরোজপুর-১ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দুই প্রার্থীর লড়াই নয়; বরং জোট রাজনীতির অবসান ও একক রাজনৈতিক সক্ষমতার বাস্তব পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে।