রাতে উৎপাদন, দিনে সরবরাহ ঝালকাঠির সেমাই যাচ্ছে জেলার বাইরেও

Printed Edition

আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

একসময় ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ হিসেবে পরিচিত নদীবন্দর ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র ঝালকাঠি আজও শিল্প ও ক্ষুদ্র কারখানাভিত্তিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ঈদকে সামনে রেখে এ জেলায় মৌসুমি শিল্প হিসেবে জমে উঠেছে সেমাই উৎপাদন। ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হওয়া এই কার্যক্রম এখন পুরোদমে চলছে, যেখানে রাতভর তৈরি হচ্ছে সেমাই আর দিনে চলছে প্যাকেটজাত ও বাজারজাতকরণ। জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা সেমাই কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা রাতের শিফটে উৎপাদনের কাজ করছেন। দিনের বেলায় সেই সেমাই প্যাকেটজাত করে ভ্যান, টমটম, মাহিন্দ্র, অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানে করে পাঠানো হচ্ছে জেলার বিভিন্ন বাজারে। শুধু ঝালকাঠির চাহিদা নয়, পাশের জেলা ও উপজেলাগুলোতেও এসব সেমাই সরবরাহ করা হচ্ছে।

ঈদ মানেই দুধে ভেজা সেমাই বাংঙ্গালির এই ঐতিহ্যবাহী খাবার ছাড়া ঈদের সকাল যেন অসম্পূর্ণ। চিকন ঝরঝরে লাচ্ছা সেমাই হোক বা শলা সেমাই, ঈদের টেবিলে এর কদর আলাদা। শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশেও সেমাই জনপ্রিয়। সময়ের সাথে সাথে হাতে তৈরি সেমাইয়ের জায়গা নিয়েছে প্যাকেটজাত সেমাই, যা এখন সহজেই পাওয়া যায়।

ঝালকাঠির পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকায় অবস্থিত ‘মক্কা সেমাই’ কারখানার মালিক আইউব আলী খান জানান, তাদের কারখানায় লাচ্ছা ও শলা দুই ধরনের সেমাই উৎপাদন করা হয়। তিনি বলেন, ‘কোনো রঙ বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। আমরা নিজেরা ও আমাদের পরিবারও এই সেমাই খাই। তাই স্বাস্থ্যসম্মত মান বজায় রাখা আমাদের জন্য জরুরি।’ তিনি আরো জানান, প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকরা নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন করেন। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকি থাকায় তারা সতর্ক থাকেন।

কারখানা ম্যানেজার সবুজ খান জানান, ঝালকাঠি শহরের পাশাপাশি পিরোজপুরের কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া, বরগুনার বামনা, বরিশালের উজিরপুর ও বানারীপাড়া এবং ভোলার বিভিন্ন মোকামে তাদের সেমাই বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ঝালকাঠির সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা বলেন, ‘সেমাইসহ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’