১১ দল নেতাদের সাথে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের মতবিনিময় ও ইফতার
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেটকে অবমাননা করেছেন। চব্বিশের জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জুলাই সনদের বিপক্ষে তাদের অবস্থান অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। জুলাই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের জনগণ তাদের উল্টো যাত্রা কখনো মেনে নেবে না। প্রয়োজনে জুলাই শহীদদের রক্তঋণ শোধ করতে আন্দোলনে নামবে এবং সরকার পরিচালনার অধিকার কেড়ে নিতে বাধ্য হবে। যে নামেই হোক ফ্যাসিবাদের পুরনো বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ্।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে গতকাল ১১ দলের নেতাদের সাথে ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপিকে ডকট্রিন অব নেসেসিটি বুঝতে হবে, ইতিহাস থেকে পাঠ নিতেই হবে। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন ছিল ডকট্রিন অব নেসেসিটি আর তার পরিণতি হয়েছিল ১৯৫৬ সালে প্রণীত পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের ২১৪ নং অনুচ্ছেদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি যা ১৯৬২ সালের সংবিধানেও বহাল ছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ম্যান্ডেট মেনে না নেয়ার পরিণতি ছিল ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের অখণ্ডতা মেনে নিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কোন আইনের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালের চাপিয়ে দেয়া সংবিধান সত্যায়ন করেছিল? বাকশালী কুশাসন থেকে মুক্তি পেতে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতি জনসমর্থন, মুশতাকের শাসন, ৭ নভেম্বরে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে জিয়ার শাসন কোন সংবিধানে লেখা ছিল?
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও ১১ দলের চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহ সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিসের সভাপতি অধ্যাপক খোরশেদ আলম, এলডিপি মহানগরীর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, এনসিপি মহানগরীর যুগ্ম সমন্বয়ক মীর মুহাম্মদ শোয়াইব, এবি পার্টি মহানগরীর আহবায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টি মহানগরী সহসভাপতি মাওলানা মুবিনুল হক, খেলাফত আন্দোলন মহানগরীর সভাপতি আতিক বিন ওসমান, লেবার পার্টির মহানগরীর সহসভাপতি মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি আফসার উদ্দীন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, এবি পার্টির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, বিডিপি মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ জুবায়ের মাহমুদ, মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: এ কে এম ফজলুল হক।
উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: মুহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজুর রহমান, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, হামেদ হাসান ইলাহী, বাংলাদেশ খেলাফত নেতা মাওলানা রিদওয়ানুল ওয়াহেদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা হাবিবুর উল্লাহ আজাদী প্রমুখ।