ভারতের জন্য ম্যাচটা মানসম্মানেরও

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত। সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে বড় পরাজয়ের পর সেমিফাইনালের পথ অনিশ্চয়তায় ঢাকা। তাই আজ চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ভারতের জন্য কার্যত ‘বাঁচা-মরার এবং মানসম্মানের’ লড়াই। জিম্বাবুয়ে তো চলতি মৌসুমে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। চেন্নাইয়ে এম চিদম্বরাম স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সুপার এইটে মুখোমুখি হবে ভারত ও জিম্বাবুয়ে।

১৩ বারের মুখোমুখিতে ভারতের জয় ১০টিতে, সব ক’টি হোমে। জিম্বাবুয়েরও তিন জয় নিজেদের মাটিতে। নিউট্রাল ভেনুতে এক জয় ভারতের। ভারতের বড় জয় ১০০ রানে ও ১০ উইকেটে। জিম্বাবুয়ের বড় জয়

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের পরাজয়ের পর তাদের নেট রান রেট (-৩.৮০) যেভাবে বেড়েছে, তা বিবেচনা করে আইসিসি শোপিসে ভারতের অস্তিত্বের জন্য বড় ব্যবধানে এই প্রতিযোগিতায় জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সমীকরণ একেবারে পরিষ্কার, বাকি দুই ম্যাচ জিততে পারলেই সেমিফাইনালে ওঠার ভাগ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নইলে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের ফলাফলের দিকে।

টুর্নামেন্টে ভারতের ওপেনিং জুটি এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে দলের শুরুটা বারবার নষ্ট করেছেন। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হার ভারতের অবস্থানকে আরো বিপদে ফেলেছে। তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে দলীয় সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। পরিবর্তন হতে পারে। আমাদের ওপেনিংয়ে দুইজন বাঁহাতি, তিন নম্বরেও বাঁহাতি, এসব বিষয় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে।

ভারতের টপ ও মিডল অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটারের আধিক্য প্রতিপক্ষের জন্য স্পষ্ট কৌশল তৈরি করে দিয়েছে। পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সবাই অফ-স্পিন দিয়ে শুরু করে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেয়ার পরিকল্পনা সফল করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে অধিনায়ক আইডেন মার্করাম নিজেই অফ-স্পিন দিয়ে বোলিং শুরু করেন এবং চতুর্থ বলেই ওপেনার ইশান কিষাণকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতে ডানহাতি ব্যাটার সঞ্জু স্যামসনকে ওপেনিংয়ে আনা হলে ব্যাটিং লাইনে ভারসাম্য আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অসুস্থ অভিষেকের পরিবর্তে তিনি আগেও দলে খেলেছেন।

অন্য দিকে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমক। তারা অস্ট্রেলিয়া এবং সহআয়োজক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা, ফলে ভারত ও জিম্বাবুয়ে উভয় দলের জন্যই এই ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোটাক স্পষ্টভাবে বলেছেন, এখন থেকে আমাদের প্রতিটি ম্যাচই জিততে হবে। কাপ জিততে চাইলে সব দলকে হারাতে হবে।

এ দিকে ভারতের মিডল অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার রিংকু সিং পারিবারিক কারণে সাময়িকভাবে দলের বাইরে ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অনুশীলনেও অংশ নেননি।