মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে গভর্নর
ব্যাংকিং খাতে লুটপাট সংস্কৃতি ঠেকাতে আইনি স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া টেকসই আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে যেন অতীতের মতো লুটপাট ও অপব্যবহারের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এ কথা বলেন। এ ছাড়া মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি থেকে জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সঙ্কোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধসের ঝুঁকি থেকে সরে এসে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ।
গভর্নর বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করার পরও ব্যাংকখাত থেকে ঋণের হার বেড়েছে।”
ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রয়োজন। সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককেও চাপে থাকতে হয়, আশা করি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আর্থিকখাত নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো কথা রাখবে। চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘গত এক বছরে ডলার কেনা হয়েছে, তবে কোনো ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি।’ দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহ ১৮ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছর ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসতে পারে।’
এ দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হারে কিছু ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বা বেসরকারি খাতে ঋণ দেয়ার পরিবর্তে তাদের অতিরিক্ত তারল্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। এতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।