নয়নতারার সৌন্দর্য

Printed Edition
Nitto-1
নয়নতারার সৌন্দর্য

মো: আবদুস সালিম

তোমরা বিভিন্ন ফুলের সাথে পরিচিত; নয়নতারা ফুলও হয়তো এর বাইরে নয়। এ ফুল দেখতে সুন্দর। একটি গাঢ় রঙের ফোঁটা রয়েছে ফুলের মাঝখানে, যা এর সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জানো, ভোরে বেশিরভাগ নয়নতারা ফুল ঝরে পড়ে ।

সামান্য যতœ ও পরিচর্যায় সারা বছর প্রতিদিন কমবেশি ফোটে এ ফুল। এ কারণেই নয়নতারার অপর নাম ‘নিত্যবিলাস’। নয়নতারা ফুলের আঞ্চলিক আরো নাম আছে- গুলফেরিংঘী, কটকতারা ইত্যাদি। এর ইংরেজি নাম পেরিউইঙ্কল (Periwinkle).

অনেকে নয়নতারা গাছের চাষও করেন। যে কোনো মাটিতে এ গাছ লাগানো যায়। তবে বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি হলে ভালো হয়। গাছের মুকুল তৈরির জায়গায় ৩০০ এর বেশি ফুল ফোটে। জুন-জুলাইয়ে এ ফুল বেশি ফোটে।

নয়নতারার আদি নিবাস মাদাগাস্কার। তবে এর দেখা মেলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশে।

নয়নতারা গুল্মজাতীয় বর্ষজীবী উদ্ভিদ। গাছ ২-৩ ফুট উঁচু বা লম্বা হয়। বহু শাখা-প্রশাখা থাকে ডালে। শাখা থেকে একজোড়া করে পাতা বের হয়। বেশ শক্ত গাছের শাখা। পাতা ডিম্বাকৃতি বা আয়তকার, মসৃণ ও বিপরীতমুখী। ফুলের পাপড়ি পাঁচটি। মোটা ও উজ্জ্বল হয় পাতার মধ্যশিরা। ফুল ফোটে গোলাপি, হালকা গোলাপি ও সাদা রঙের। ফুলের পাপড়ি চারদিকে ছড়ানো। ফুলের নিচের দিক সাদা। সাধারণত এ ফুলে গন্ধ না থাকলেও জাতভেদ সামান্য গন্ধ থাকতে পারে। কোণাচে ধরণের গাছের কাণ্ড, রঙ সাদা বা বেগুনি। এ গাছে বীজ হয়, যা চাষ করা যায়। বীজে একটি আবরণ থাকে। তখনই এটাকেই বলা হয় ফল। ফল চ্যাপ্টা ও লম্বা। ফল দেখতে কিছুটা সরিষার দানার মতো। প্রতি ফলে ২০-৩০টি করে বীজ থাকে। বীজ পরিপক্ব হলে এর আররণ ফেটে যায়। তখন তা থেকে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে বীজ। পরিপক্ব বীজ কালো। তা কিছুটা কালোজিরার মতো দেখতে। বাগান ছাড়াও এ গাছ সহজে জন্মে ফল ও ফুলের বাগান, বাড়ির ছাদ ও উম্মুক্ত বা খোলা জায়গায়। উন্নত প্রযুক্তি আসায় নানান আকর্ষণীয় রঙের হাইব্রিড নয়নতারার চাষ হচ্ছে। এগুলো লাল, গোলাপি, গাঢ় গোলাপি, বেগুনি প্রভৃতি রঙের হয়ে থাকে।

মোটামুটি তেতো স্বাদের এ ফুল গাছ।