কিশোরগঞ্জ ভূমি অফিস ঘুষের আখড়া, অভিযোগ সেবাপ্রত্যাশীদের

Printed Edition

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিজানের কাছে টাকা না দিলে নামজারি, রেকর্ড সংশোধন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণসহ বিভিন্ন কাজ মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়।

ভূমি অফিসে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নির্ধারিত ফি ছাড়াও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে কাজ করানো হয় এবং ঘুষ না দিলে নানা অজুহাতে ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পুরান টেপা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ল্যান্ড সার্ভে আদালতে রায় পাওয়ার পর ডিসি অফিসে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস ঘোরার পর বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। একইভাবে পূর্ব দলিরাম এলাকার সুমন মিয়া অভিযোগ করেন, তার মায়ের জমির রেকর্ড সংশোধনের প্রতিবেদন পাঠাতে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হয়।

বাহাগিলি ইউনিয়নের কৃষক গোলাম রব্বানী দাবি করেন, ওয়ারিশ সূত্রে জমি বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে প্রথমে ৪০-৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। এ ছাড়া খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, মিজানুর রহমান বর্তমানে ডোমার উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা হলেও ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর প্রেষণে কিশোরগঞ্জে যোগ দেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ৯টি ইউনিয়নের বহু সেবাপ্রত্যাশী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, ঘুষ নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।