মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ড
স্বামীসহ ঘাতক গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঝালকাঠি প্রতিনিধি
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আলোচিত মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘাতক গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার ও তার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার সহযোগিতায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেফতর করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা জানিয়েছে, চুরি করে পালানোর সময় দেখে ফেলায় তাদের হত্যা করা হয়। এর আগে তার চুরির রেকর্ড রয়েছে। পুলিশ বলছে, আয়েশাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। এরপর তাকে জ্ঞিাসাবাদ করে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর গৃহকর্মী আয়েশা তার স্বামীকে জানালে তিনি তাকে ঢাকা থেকে পালাতে সহায়তা করেন। পরে রাব্বীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আয়েশাকে গ্রেফতার করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মোহাম্মাদ জুয়েল রানা জানিয়েছেন, ঘটনার পর প্রথমে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে আয়েশার স্বামীকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নলছিটি থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় আয়েশাকে। তিনি আরো বলেন, ক্লুলেস এই জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে ছয় মাস আগে মোহাম্মাদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার একটি বাসায় চুরিও করেছিলেন আয়েশা। জানা যায়, যে বাড়ি থেকে আয়েশাকে গ্রেফতার করা হয় ওই বাড়ি তার দাদা শ্বশুরের গ্রামের বাড়ি।
গত সোমবার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের (১৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জোড়া হত্যার ঘটনায় গত সোমবার রাতে গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী স্কুলশিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম।
ঝালকাঠি থেকে প্রতিনিধি জানান, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি দল নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়ারচর গ্রাম থেকে আয়েশাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকেও আটক করা হয়। জামাল সিকদার রাব্বি ওই এলাকার জাকির সিকদারের ছেলে। মোহাম্মদপুর থানার এসি আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতার আয়েশা আক্তার নরসিংদী জেলার সলিমগঞ্জ এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো: সহিদুল ওসমান মাসুম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খবর পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, গৃহকর্তার বাসা থেকে কিছু মালামাল সে চুরি করেছিল। পরে এ নিয়ে ধস্তাধস্তি হলে সে দু’জনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।