২০ লাখ বইয়ের হদিস মিলছে না শুরু হয়নি অষ্টম শ্রেণীর কাস
Printed Edition
শাহেদ মতিউর রহমান
চারটি প্রেসের কারসাজিতে অষ্টম শ্রেণীর ২০ লাখ বইয়ের হিসাবে গরমিল ধরা পড়েছে । ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের এক মাস শেষ হলেও এখনো পুরোদমে কাস শুরু করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। যদিও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড তথা এনসিটিবি থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে। কিন্তু বিশেষত চারটি প্রেস মালিকের চতুরতায় এনসিটিবির সেই উদ্যোগও ভণ্ডুল হয়ে গেছে। এখন বাধ্য হয়ে অন্য প্রেস থেকে বাকি বই ছাপিয়ে স্কুলে স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণে এক শ’র বেশি প্রেসকে টেন্ডারের মাধ্যমে দায়িত্ব দেয় এনসিটিবি। এর মধ্যে প্রাথমিকের ৯ কোটির বেশি বই (শতভাগ) ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণীর ২০ কোটির বেশি বই মুদ্রণ ও সরবরাহ নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতা তৈরি হয়। বইয়ের মান এবং কাগজ-কালির কোয়ালিটি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এনসিটিবি এবং প্রি ইন্সপেকশন এজেন্সি (পিডিআই)-এর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে বইয়ের মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। তারপরেও কিছু প্রেসের বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তাদেরকে কয়েক দফায় সতর্কও করা হয়েছে।
এখন সঙ্কট দেখা দিয়েছে অষ্টম শ্রেণীর বিভিন্ন বিষয়ের ২০ লাখ বইয়ের হিসাব নিয়ে। ইতোমধ্যে এই বিশাল সংখ্যার পাঠ্যবই ঘাটতির একটি ভুতুড়ে হিসাব এনসিটিবির নজরে এসেছে। বিশেষত চারটি প্রেস নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরেও তারা এই বইগুলো মুদ্রণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারেনি। এ দিকে অষ্টম শ্রেণীর বই সঙ্কটে অনেক স্কুলে কাসও শুরু করতে পারেনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, চারটি প্রেস ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের এরোস্টোকেট প্রেস তাদের নির্ধারিত পাঁচ লাখ বইয়ের কোনো হিসাব এখনো দিতে পারেনি। অর্থাৎ এই প্রেস যে পরিমাণ বই মুদ্রণের দায়িত্ব নিয়েছিল সেখান থেকে পাঁচ লাখ বই এখনো ঘাটতি রয়েছে। অপর দিকে সরকার অপসেট প্রেস থেকে দুই লাখ বইয়ের হিসাব এনসিটিবি পায়নি। বর্ণমালা প্রেস থেকে চর লাখের বেশি বইয়ের গরমিল ধরা পড়েছে। সর্বশেষ চট্টগ্রামের সাগরিকা প্রেস তাদের দায়িত্বে থাকা আরো পাঁচ লাখ বইয়ের হিসাব এখনো দিতে পারেনি। সবমিলিয়ে মোট ২০ লাখ বইয়ের ঘাটতিতে রয়েছে এনসিটিবি।
যদিও এনসিটিবি সূত্র গতকাল নয়া দিগন্তকে জানায়, বর্ণমালা প্রেসের ঘাটতির তিন লাখ ২৫ হাজার বই বাইরের অন্য একটি প্রেস থেকে জরুরি ভিত্তিতে মুদ্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর অন্য তিন প্রেসকে তাগিদ দিয়ে তাদের বাকি বইগুলো দুই-তিন দিনের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জরুরি বার্তা দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের ব্যর্থতার কারণে নিয়মমতো জরিমানা এবং কালো তালিকভুক্ত করার বিষয়েও এনসিটিবি তাদেরকে সতর্ক করেছে।
এ দিকে ২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ের মানের বিষয়ে পিডিআই প্রতিষ্ঠান কন্ট্রোল ইউনিয়ন বিডি-এর প্রকল্প পরিচালক রাফি মাহমুদ বিপ্লব এই প্রতিবেদককে জানান, আমরা শুরু থেকেই বইয়ের মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এ ক্ষেত্রে এনসিটিবিও আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছে। তিনি আরো জানান, ২০২৬ শিাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরে তিন হাজার টন মুদ্রণ কাগজ বাতিল করে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান থেকে অপসারণ করেছি। এ ছাড়া ৪৫ লাখ মুদ্রিত ফর্মা ও ২৫ লাখ রেডি বই, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেস থেকে বাতিল করে বিনষ্ট করেছি। মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবারহ নিশ্চিত করতে মানের বিষয়ে আমরা কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলাদা আলাদা টিম দিয়ে প্রেস মনিটরিং-এর পাশাপাশি নানা পদপে নিয়েছি। অবশ্য এর ফল হিসেবে এবার শিক্ষার্থীদের হাতে অন্য বছরের তুলনায় ভালো মানের বই পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
সাগরিকা প্রেসের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা কিছু বইয়ের ওয়ার্ক অর্ডার দেরিতে পেয়েছি। আর এ কারণেই কিছু বই মুদ্রণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আশা করছি, এক বা দু’দিনের মধ্যেই সব বই আমরা মুদ্রণকাজ শেষ করতে পারব।