ওমরাহ থেকে ফিরে বিজয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
‘বিসিবির সম্মানার্থে সব কিছু থেকে একটু দূরে থেকেছি। পাঁচটা কথা বললাম, একটা যদি এদিক-ওদিক হয়ে যায়, কাউকে অসম্মানিত করি। এ জন্য আপনাদের ফোনও রিসিভ করিনি। এ জন্য প্রথমেই দুঃখিত। গতকাল ওমরাহ থেকে আসলাম।’ এভাবেই কথাগুলো বললেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫১ সেঞ্চুরি করা এনামুল হক বিজয়।
এরপর বিজয় যা বলেছেন, তা এক কথায় বিস্ফোরকই বলা চলে। তিনি বলেন, ‘দুটো বিষয় নিয়ে এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় আছি। কোনো সমাধান পাচ্ছি না। একটি হলো তদন্ত রিপোর্ট, আরেকটা পারিশ্রমিক ইস্যু।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে এনামুল হক বিজয় আলোচিত চরিত্র। ফিক্সিং নিয়ে অভিযোগ ওঠায় গত বিপিএল খেলতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য আসরে অবশ্য তিনি বিবেচনায় রয়েছেন। এ দিকে সর্বশেষ যে বিপিএল তিনি খেলেছেন তার পারিশ্রমিক পাননি এখনো। সব মিলে মিরপুরে বিজয় হঠাৎ হাজির হলেন সংবাদ সম্মেলনে। ‘গত দুই বছরে আমার কোনো ইনকাম সোর্স নেই। সহজ কথা এটি। আমি তো বিপিএল খেলিনি। দুই বছরের বিপিএলের পারিশ্রমিক পাইনি। গত বছর খেলা হয়নি। আমি এ বছরও খেলছি না। একটা খেলোয়াড়কে তো চলতে হবে। সে কিভাবে চলবে? এটি তো বিসিবির দেখার বিষয়।’
বিজয় তার সাথে হওয়া ‘অন্যায় আচরণের’ প্রতিবাদ জানান, ‘বিপিএল খেলতে দেয়া হয়নি আমাকে, যেটা আমার অধিকার। পেমেন্টের বিষয়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্নজনের সাথে যোগাযোগ করেও ফল পাইনি। সবাই আজকাল বলছে ঘুরাচ্ছে। একেক সময় একেকজনের কাছে যাচ্ছি। আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করেছি। মনে হচ্ছে ঝুলে আছি। এটি কেউই চায় না ঝুলন্ত অবস্থায় থাকুক।’
একটি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য টুর্নামেন্ট খেলতে দেয়া- দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেছেন, ‘সময় তো পার হচ্ছে। একটা টুর্নামেন্ট খেলতে দেয়া হবে, একটা হবে না। এভাবে তো চলতে পারে না। এমন তো না প্রফেশনাল প্লেয়ার না বা থার্ড ডিভিশন খেলছি। আমার একটা ক্যারিয়ার আছে। ১০-১২ বছর ন্যাশনাল টিমে খেলেছি। ৫১টি সেঞ্চুরি আছে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। এমনি এমনি তো আসিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে, বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি তো নরমাল একটা প্লেয়ার না যে আসলাম আর বললাম। আমার জিনিস এত লেনদি হওয়া উচিত না।’
এ সময় বিসিবির সাথে যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বুলবুল ভাইকে এখন পর্যন্ত ফোনে আমি পাইনি। কথা বলতে চাই বলে ম্যাসেজ দিয়েছি। উনি কথা বলেনি, রিপ্লাই দেয়নি। ফারুক ভাই বলছে দেখি বিষয়টা। মিঠু ভাই তো সবসময় বলছে দেখি দেখি, হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ। অবশ্যই হতাশাজনক, না হলে আসতাম না এখানে।’