ইইউ কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকরা আজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল আজ থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। নাগরিকরা নির্ভয়ে এবং নিরাপদে ভোট দিতে পারছেন কি না, নির্বাচনে নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে কি না, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, জাতীয় আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে কি না এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে, বিদেশী পর্যবেক্ষকরা তা মূল্যায়ন করবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছে ইইউ। গত ২৯ ডিসেম্বর ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের ১১ জন বিশ্লেষকের সমন্বয়ে গঠিত কোর ঢাকা পৌঁছায়। ১৭ জানুয়ারি ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে মিশনের তৎপরতা ৬৪ জেলায় সম্প্রসারিত হয়। নির্বাচনের ঠিক আগে আজ মঙ্গলবার আরো ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষককে দেশের কৌশলগত স্থানে মোতায়েন করা হবে। পূর্ণ সক্ষমতার এই মিশনে ইইউর ২৭টি দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইইউর দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম, প্রার্থীদের প্রচারণা ও সম্ভাব্য অভিযোগসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সাপ্তাহিক রিপোর্ট পাঠানো। আর স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। এই দুই স্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করবে।
নির্বাচনের দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। আর নির্বাচনের দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হবে। এতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এ মুহূর্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ মন্তব্য করে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন প্রধান ইভার্স ইজারস গণমাধ্যমকে বলেছেন, ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের ভূমিকা সহায়ক হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর নিরপেক্ষতার প্রতি আমরা নজর রাখব।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তিনটি বিষয়ের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকরা কতটা নির্ভয়ে এবং নিরাপদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে, নির্বাচনে নারী এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজর দেয়া হবে।
এ দিকে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণভোটের প্রস্তুতি এবং নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দলটি ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে থাকবে। স্বাধীন পর্যবেক্ষক হিসেবে দলটি নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ, ভোটগ্রহণের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়কাল মূল্যায়ন করবে। ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথের পর্যবেক্ষকরা আজ থেকে নির্বাচিত বিভাগগুলোতে যাবে।
কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো। এ দলে আরো রয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ এবং সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাজি।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান নানান আকুফো-আদ্দো বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুব সমাজের সম্ভাব্য ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কমনওয়েলথজুড়ে সংহতি প্রকাশকারী তরুণ-যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।